📌 ইরান-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ বার্তা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের কারণে পাকিস্তানের মানুষ অসন্তুষ্ট। গাবদ-রিমদান সীমান্ত বন্ধের ফলে গোয়াদর বন্দর ও এলপিজি বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে
ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি ও আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তানের ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ বার্তা পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। ইরানের সংসদে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ স্লোগান উঠার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু ১৭ অক্টোবর সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার ফলে এই সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের সংসদে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ স্লোগান উঠার পর থেকে পাকিস্তান ইরানের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা ও আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- 📌 ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার ফলে ইরানের টেলিভিশন চ্যানেলে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ গান প্রচারিত হয়।
- 📌 ১৭ অক্টোবর পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়, যার ফলে গাবদ-রিমদান সীমান্তের ৮৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গোয়াদর বন্দরের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।
- 📌 গোয়াদর বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় এটি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
- 📌 গাবদ-রিমদান সীমান্ত বন্ধের ফলে প্রতিদিন চার হাজার টন এলপিজি পাকিস্তানে প্রবেশ করতে পারছিল না, যা পাকিস্তানের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দামে প্রভাব ফেলবে।
- 📌 পাকিস্তান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চোরাচালানের কারণে সীমান্ত বন্ধের দাবি জানিয়েছে, কিন্তু ইরান ‘কারিগরি কারণে’ এই সীমান্ত বন্ধের কথা বলেছে।
- 📌 গোয়াদর বন্দর দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বন্দরে তেল শোধনাগার নির্মাণের প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
- 📌 পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হওয়ায় ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর পর গোয়াদর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
২০২৫ সালের জুনে ইরানের সংসদে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ স্লোগান উঠার পর থেকে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান ইরানের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা করে আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সহযোগিতার স্বীকৃতি হিসেবে ইরানের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান’ গান প্রচারিত হয়। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সমাবেশে ইরানিরা পাকিস্তানের পতাকা ওড়ান।
কিন্তু এই সৌহার্দ্যের অবসান ঘটে ১৭ অক্টোবর। ১৮ অক্টোবরের সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত হয় যে, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে তাদের সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। গাবদ-রিমদান সীমান্তের গুরুত্ব ছিল বিশেষ, কারণ এটি গোয়াদর বন্দর থেকে মাত্র ৮৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গোয়াদর বন্দর হরমুজ প্রণালির দূরত্ব মাত্র ৪০০ কিলোমিটার, যেখানে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই বন্দর দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গোয়াদর বন্দর থেকে এলপিজি বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। গাবদ-রিমদান সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন চার হাজার টন এলপিজি পাকিস্তানে প্রবেশ করত। এখন এই সীমান্ত বন্ধের ফলে এলপিজি বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চোরাচালানের কারণে সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছে। তবে ইরান ‘কারিগরি কারণে’ এই সীমান্ত বন্ধের কথা বলেছে।
গোয়াদর বন্দর ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তেল শোধনাগার নির্মাণের প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। সৌদি আরব চীনকে প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে আগ্রহী ছিল, কিন্তু চীন রাজি হয়নি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ও হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর পর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হওয়ায় ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর পর গোয়াদর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
"পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ আগে থেকেই বন্ধ। এখন ইরানের সঙ্গে পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গোয়াদর বন্দর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাকিস্তান (বেলুচিস্তান), ইরান (বেলুচিস্তান), গোয়াদর বন্দর, হরমুজ প্রণালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, হামিদ মীর, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ কিলোমিটার (গাবদ-রিমদান থেকে গোয়াদর), ৪০০ কিলোমিটার (গোয়াদর থেকে হরমুজ), ২০ শতাংশ (বিশ্বের তেল বাণিজ্য), ১০ বিলিয়ন ডলার (আরামকো প্রকল্প), ৪ হাজার টন (দৈনিক এলপিজি বাণিজ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!