📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি করারও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন। তবে তিনি নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি করারও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তিনি সিদ্ধান্ত নিতে বলেন যে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা হবে কিনা বা দেশটিকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন এবং নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
- 📌 তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে চুক্তি না করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না’ এবং নির্বাচনের পরপরই চুক্তিতে পৌঁছানো হবে।
- 📌 ট্রাম্প ইরানকে ‘নরক’-এর মতো অবস্থানে ফেলার হুমকি দেন, যেখানে তাদের বেঁচে ফেরার কোনো পথ থাকবে না।
- 📌 তিনি ইরানকে নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন, কারণ তিনি মনে করেন, ‘আমি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না’।
- 📌 ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক শক্তি’ প্রয়োগের হুমকি দেন এবং গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সামরিক চুক্তির প্রশংসা করেন।
- 📌 তিনি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সমালোচনা করেন এবং তাদের বর্জনের আহ্বান জানান।
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি করা হবে, যা তাদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে? নাকি আমি এই ইসলামিক রিপাবলিককে সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেব?’ ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত যুদ্ধ দেখে ক্লান্ত আমেরিকান ভোটারদের মন জয় করার মতো করে সাজানো বলে মনে হয়।
৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প ইরানকে ‘নরক’-এর মতো অবস্থানে ফেলার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কি তাদের এমন নরকে ঠেলে দেব, যেখান থেকে তাদের বেঁচে ফেরার বা ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো পথই থাকবে না?’ তিনি নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, কারণ চুক্তি না করাটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।’
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) যা বুঝতে পারছে না তা হলো, আমি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না।’ তিনি আরও বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই বিপুল ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষণে লাতিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক শক্তি’ প্রয়োগের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা খুব ‘শিগগির পতনের’ মুখে পড়বে। গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে হওয়া সামরিক চুক্তির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই চুক্তির অধীনে আর্কটিক অঞ্চলে দুটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। তবে এই চুক্তি ন্যাটোসহ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে তীব্র মতভেদ সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি এই সংস্থাগুলোকে বর্জন করার জন্য অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানান। ট্রাম্পের ৩৭ মিনিটের ভাষণটি ছিল গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম বিস্ফোরক।
"অন্যরা যখন কেবল শান্তির কথা বলেছে, আমি তখন শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। অন্যরা যখন হুমকিগুলোকে উপেক্ষা করে গেছে, আমি তখন সেগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ অধিবেশন), ওয়াশিংটন, লাতিন আমেরিকা, আর্কটিক অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের নেতৃত্ব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর (ট্রাম্পের বয়স), ৩৭ মিনিট (ভাষণের দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!