📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদকে 'জিহাদি' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ৯/১১-এর হামলাকারীদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি মার্কিন সিনেটের প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সদস্য হবেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানের একটি নির্বাচনী জনসভায় মুসলিম প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদকে 'জিহাদি' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ২০০১ সালের ৯/১১-এর হামলাকারীদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এল-সায়েদকে মার্কিন সিনেটে প্রবেশের পূর্বে একমাত্র মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। এই নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবং এল-সায়েদের জয়ী হলে তিনি মার্কিন সিনেটের প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সদস্য হবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানের পোর্ট হিউরনে অনুষ্ঠিত জনসভায় মুসলিম প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদকে 'জিহাদি' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ৯/১১-এর হামলাকারীদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
- 📌 ট্রাম্প বলেছেন, 'আমি এখানে এসেছি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি সদস্যকে মার্কিন সিনেটর হওয়া থেকে ঠেকাতে'।
- 📌 এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি মার্কিন সিনেটের প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সদস্য হবেন।
- 📌 ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প এল-সায়েদের এলাকায় ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- 📌 এল-সায়েদ প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, 'আমার নামের প্রথম অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অথচ সৌদি ও কাতারিদের একই নাম থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের কোনো আপত্তি নেই'।
- 📌 রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স বলেন, এল-সায়েদকে সন্ত্রাসী মনে করেন না, তবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন।
- 📌 সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণকে নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, 'প্রতিপক্ষরা এল-সায়েদকে অন্যদের তুলনায় “কম আমেরিকান” হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করছে'।
- 📌 মিশিগানের এই সিনেট আসনটি রিপাবলিকানদের সূক্ষ্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫৩-৪৭) পরিবর্তন করতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মিশিগানের পোর্ট হিউরনে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি এল-সায়েদকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের 'ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩'-এর হামলাকারীদের সঙ্গে তুলনা করে 'জিহাদি' বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, 'আমি এখানে এসেছি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি সদস্যকে মার্কিন সিনেটর হওয়া থেকে ঠেকাতে'। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটে প্রবেশের পূর্বে তাঁকেই একমাত্র মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হবে।
এল-সায়েদের জয়ী হলে তিনি মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সদস্য হবেন। ট্রাম্পের এই ধরনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এল-সায়েদ মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিড্সে এক সভায় বলেছেন, 'আমার নামের প্রথম অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অথচ সৌদি ও কাতারিদের একই নাম থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের কোনো আপত্তি দেখা যায় না'।
রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মাইক রজার্স ট্রাম্পের ৯/১১ সংক্রান্ত মন্তব্যের সরাসরি জবাব না দিলেও জানিয়েছেন, তিনি এল-সায়েদকে সন্ত্রাসী মনে করেন না। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, এল-সায়েদের সাথে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন পাচ্ছেন। এল-সায়েদ এই অভিযোগকে 'লজ্জাজনক' আখ্যা দিয়ে নিজের দেশপ্রেম ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এই নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণকে নিন্দা করেছেন। ওবামা বলেছেন, 'প্রতিপক্ষরা এল-সায়েদকে অন্যদের তুলনায় “কম আমেরিকান” হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করছে, যা অতীতে তাঁর ক্ষেত্রেও (কেনিয়ায় জন্ম সংক্রান্ত ভুয়া দাবি) করা হয়েছিল'।
মিশিগানের এই সিনেট আসনটি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৫৩-৪৭ এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮-২১৪। ডেমোক্র্যাটদের মাত্র কয়েকটি আসনে জয়ের প্রয়োজন রয়েছে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরিবর্তন করতে।
"আমার নামের প্রথম অংশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অথচ সৌদি ও কাতারিদের একই নাম থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের কোনো আপত্তি দেখা যায় না"
"প্রতিপক্ষরা এল-সায়েদকে অন্যদের তুলনায় ‘কম আমেরিকান’ হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন মিশিগান (পোর্ট হিউরন, গ্র্যান্ড র্যাপিড্স, ডেট্রয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, আব্দুল এল-সায়েদ, মাইক রজার্স, বারাক ওবামা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ নভেম্বর (নির্বাচন তারিখ), ৬৬ শতাংশ (ট্রাম্পের ভোট), ৫৩-৪৭ (সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা), ২১৮-২১৪ (প্রতিনিধি পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!