📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন। এই বক্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষত ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জ্বালানির চুক্তি ঘোষণায় সমালোচনার মুখে পড়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সেন্ট পিটার্সবার্গের কনস্ট্যান্টাইন প্রাসাদে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে উইটকফ বলেন, ‘আপনারা প্রায়ই আমার প্রেসিডেন্টকে মানবতাবাদী বলে থাকেন। আপনিও একজন মানবতাবাদী, মহাশয়।’ এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ পুতিনকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
- 📌 ২০২২ সালে জো বাইডেন পুতিনকে ‘নির্মম’ ও ‘খুনে স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যায়িত করলেও ট্রাম্প প্রশাসন পুতিনের প্রতি অনুকূল মনোভাব প্রকাশ করছে।
- 📌 ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির পরই উইটকফের এই বক্তব্য, যা রাশিয়া-মার্কিন সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- 📌 ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন রাশিয়া থেকে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহের চুক্তি নিয়ে, যা জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।
- 📌 ১৬ অক্টোবর রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে মস্কো ৩০ থেকে ৭০ কোটি ডলার আয় করতে পারে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
- 📌 ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ‘একটি চুক্তি করার সময় এসেছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘বিনিময়ে একেবারেই কিছু পায়নি’। তবে সমালোচকরা যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনকে সহায়তা করার পিছনে লুকানো উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন।
- 📌 ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের সমালোচনা বেড়েছে, যিনি যুদ্ধ বন্ধের জন্য সমঝোতা চান।
📰 বিস্তারিত
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুতিনকে ‘নির্মম’, ‘খুনে স্বৈরশাসক’ ও ‘দুর্বৃত্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু চার বছর পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ পুতিনকে ‘মানবতাবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সেন্ট পিটার্সবার্গের কনস্ট্যান্টাইন প্রাসাদে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে উইটকফের এই মন্তব্য। এর আগে ২০২২ সাল থেকে আটক থাকা মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয় রাশিয়া।
উইটকফের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর জন কর্নিন এক্সে লেখেন, ‘না। পুতিন একজন নির্মম খুনি’। আরেক সিনেটর থম টিলিস উইটকফের বক্তব্যকে ‘বিব্রতকর ও আপত্তিকর’ বলে সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান রাশিয়া-মার্কিন সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা।
৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন রাশিয়া থেকে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তি নিয়ে। এই চুক্তির লক্ষ্য জ্বালানির দাম কমাতে এবং ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা। ১৬ অক্টোবর ট্রাম্প আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ শিথিল করেন। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে মস্কো ৩০ থেকে ৭০ কোটি ডলার আয় করতে পারে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রতি অনুকূল মনোভাব নিয়ে বিতর্ক চলছে। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া তেমন কিছু করছে না’। তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, একই দিনে রুশ ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হন। ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির প্রতি সমালোচনা বাড়িয়ে বলেন, ‘একটি চুক্তি করার সময় এসেছে। আমরা ইউক্রেনকে অনেক কিছু দিয়েছি, কিন্তু বিনিময়ে একেবারেই কিছু পাইনি’। তবে সমালোচকরা যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনকে সহায়তা করার পিছনে লুকানো উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন।
"আপনারা প্রায়ই আমার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মানবতাবাদী বলে থাকেন। আপনিও একজন মানবতাবাদী, মহাশয়। আমি আপনাকে অভিবাদন জানাই, আপনার প্রশংসা করি এবং আবারও ধন্যবাদ জানাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেন্ট পিটার্সবার্গ (রাশিয়া), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মস্কো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টিভ উইটকফ, ভ্লাদিমির পুতিন, জো বাইডেন, ভলদিমির জেলেনস্কি, জন কর্নিন, থম টিলিস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ অক্টোবর, ৭৪ বছর, ৯ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর, ১৬ অক্টোবর, ৩০ কোটি ডলার, ৭০ কোটি ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!