📌 আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্টিল মিল প্রকল্পের পিছনে ভারতের এসসার গ্রুপের রাশিয়া সংলগ্ন ব্যবসার গভীর জড়িততা উন্মোচিত হয়েছে। এসসার গ্রুপের মালিকানাধীন মেসাবি মেটালিক্সের সাথে রাশিয়ার নিষিদ্ধ সংস্থা রোসনেফ্টের মালিকানাধীন এনার্জি কোম্পানি নায়ারা এনার্জির সংযোগের কারণে এই প্রকল্পে প্রশ্ন উঠেছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৃষ্ণচক্রে ঘোষিত ১৫ বিলিয়ন ডলারের স্টিল মিল প্রকল্পের পিছনে রাশিয়ার সাথে ভারতের এসসার গ্রুপের গভীর ব্যবসা সম্পর্কের রহস্যময় জড়িততা উন্মোচিত হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা দেওয়ার সময় তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এসসার গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি রুইয়া, যিনি মিনেসোটার মেসাবি মেটালিক্স কোম্পানির মালিক। এই কোম্পানিই আমেরিকার বৃহত্তম স্টিল মিল নির্মাণের দায়িত্বে নিযুক্ত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৫ বিলিয়ন ডলারের স্টিল মিল প্রকল্পের পিছনে রাশিয়া সংলগ্ন ভারতের এসসার গ্রুপের জড়িততা** — এসসার গ্রুপের মালিকানাধীন মেসাবি মেটালিক্স কোম্পানি আমেরিকার বৃহত্তম স্টিল মিল নির্মাণ করছে, যা রাশিয়ার নিষিদ্ধ কোম্পানি রোসনেফ্টের সাথে জড়িত নায়ারা এনার্জির মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম ব্যবসার সাথে সংযুক্ত।
- 📌 **রাশিয়ার নিষিদ্ধ কোম্পানি রোসনেফ্টের ৫০% মালিকানাধীন নায়ারা এনার্জি** — ২০১৬ সালে এসসার গ্রুপের পেট্রোলিয়াম ব্যবসা নায়ারা এনার্জি নামে রিব্র্যান্ড করা হয়, যেখানে রোসনেফ্টের ৫০% মালিকানাধীন। এই কোম্পানিটি রাশিয়ার জন্য পেট্রোলিয়াম সরবরাহ করছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
- 📌 **৯৯ বছরের ব্র্যান্ডিং চুক্তি** — নায়ারা এনার্জি ভারতের হাজার হাজার পেট্রোল পাম্পে এসসার গ্রুপের ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করছে, যা ৯৯ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ।
- 📌 **১,৭৫০ স্থায়ী ও ৬,০০০ নির্মাণ চাকরির প্রতিশ্রুতি** — স্টিল মিলের প্রথম পর্যায়ে বছরে ৭.৫ মিলিয়ন টন স্টিল উৎপাদন করা হবে, যা পরবর্তীতে ১০ মিলিয়ন টনে বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পের নির্মাণ ও প্রথম দশ বছরের অর্থনৈতিক প্রভাব ৯৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।
- 📌 **ট্রাম্পের ২৩২ টারিফের দাবি** — ট্রাম্পের বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছেন, “এই মাইন ও স্টিল মিল নির্মাণের পিছনে আমাদের ২৩২ টারিফের ভূমিকা রয়েছে। এই টারিফ ছাড়া এই প্রকল্প সম্ভব হত না।”
📰 বিস্তারিত
২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করার সময় রবি রুইয়ার ভাই শাশি রুইয়া পুতিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময়ের চুক্তি ছিল রাশিয়ার সাথে এসসার গ্রুপের পেট্রোলিয়াম ব্যবসার। ২০১৬ সালে এসসার গ্রুপের ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ১৩ বিলিয়ন ডলারে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামকে বিক্রি করা হয়। সেই রিফাইনারিকে নায়ারা এনার্জি নামে রিব্র্যান্ড করা হয়। বর্তমানে, নায়ারা এনার্জির ৫০% মালিকানাধীন রাশিয়ার রোসনেফ্ট কোম্পানি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
নায়ারা এনার্জি বর্তমানে রাশিয়ার জন্য পেট্রোলিয়াম সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেনের আক্রমণের কারণে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম সংকটের সময় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, নায়ারা এনার্জি ভারতের হাজার হাজার পেট্রোল পাম্পে এসসার গ্রুপের ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করছে, যা ৯৯ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ। এই চুক্তির মাধ্যমে এসসার গ্রুপের ব্র্যান্ডিং ভারতের পেট্রোলিয়াম বাজারে অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষিত স্টিল মিল প্রকল্পের আকার ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা আমেরিকার বৃহত্তম স্টিল মিল হবে। এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বছরে ৭.৫ মিলিয়ন টন স্টিল উৎপাদন করা হবে, যা পরবর্তীতে ১০ মিলিয়ন টনে বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পের নির্মাণ ও প্রথম দশ বছরের অর্থনৈতিক প্রভাব ৯৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে। ট্রাম্পের বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছেন, “এই মাইন ও স্টিল মিল নির্মাণের পিছনে আমাদের ২৩২ টারিফের ভূমিকা রয়েছে। এই টারিফ ছাড়া এই প্রকল্প সম্ভব হত না।”
ট্রাম্প বলেছেন, “আমার শপথ গ্রহণের পর থেকে আমি ৫০% টারিফ লাগিয়েছি বিদেশি স্টিলের উপর। এখন আমাদের স্টিল শিল্প আবার জাগ্রত হয়েছে। সবাই তাদের কারখানা আমেরিকায় নির্মাণ করছে কারণ তারা টারিফ দিতে চায় না।”
"এই মাইন ও স্টিল মিল নির্মাণের পিছনে আমাদের ২৩২ টারিফের ভূমিকা রয়েছে। এই টারিফ ছাড়া এই প্রকল্প সম্ভব হত না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিনেসোটা (মেসাবি আয়রন রেঞ্জ), আইওয়া (স্টিল মিল), ভারত (পেট্রোলিয়াম পাম্প), রাশিয়া (রোসনেফ্টের কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (আমেরিকার প্রেসিডেন্ট), রবি রুইয়া (এসসার গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা), হাওয়ার্ড লুটনিক (বাণিজ্য মন্ত্রী), ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বিলিয়ন ডলার (স্টিল মিল প্রকল্প), ১৩ বিলিয়ন ডলার (পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি বিক্রি), ৯৯ বছর (ব্র্যান্ডিং চুক্তি), ১০০% (নিষেধাজ্ঞা টারিফ), ১,৭৫০ (স্থায়ী চাকরি), ৬,০০০ (নির্মাণ চাকরি), ৭.৫ মিলিয়ন টন (প্রথম পর্যায়ের স্টিল উৎপাদন), ১০ মিলিয়ন টন (পরবর্তী পর্যায়ের স্টিল উৎপাদন), ৯৫ বিলিয়ন ডলার (অর্থনৈতিক প্রভাব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!