📌 তিগ্রায়ের রাজধানী মেকেলে দোকান ও ব্যাংক আবার খুললেও, যুদ্ধের ভয় ও বেতন বিলম্বের কারণে জনতা আতঙ্কিত। ১৩৭ হাজার সরকারি কর্মচারী বেতন পায়নি, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বন্ধের ভয়ে। সীমান্তে ইরিত্রীয় সৈন্য প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
তিগ্রায়ের রাজধানী মেকেলে দোকান-দুকান ও ব্যাংক আবার খোলা হলেও, দুই বছর আগের যুদ্ধের পরিকল্পিত পুনরুদ্ধারের পথে নতুন আঘাত হচ্ছে। ৪ অক্টোবর থেকে পুনরায় শুরু হওয়া সংঘাতের ভয় ও অর্থনৈতিক সংকটে আতঙ্কিত জনতা দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসার পথে অগ্রসর হলেও, বেতন বিলম্ব ও শিক্ষা বন্ধের ভয় তাদেরকে দিশাহারা করে রেখেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেকেলে দোকান ও ব্যাংক আবার খোলা হলেও, ১৩৭ হাজার সরকারি কর্মচারী বেতন পায়নি, যার মধ্যে ৮.৫ বিলিয়ন বির (প্রায় ৫২ হাজার মার্কিন ডলার) অর্থ সংকটের কারণে বেতন বিলম্বিত হয়েছে।
- 📌 শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বন্ধের ভয়ে আতঙ্কিত — ৫ হাজার শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে এডিস আবাবায় স্থানান্তরিত হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
- 📌 সীমান্তে ইরিত্রীয় সৈন্য প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়েছে, যা তিগ্রায়ের যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
- 📌 গব্রেগিজাবহের (মেকেলের সরকারি কর্মচারী) বলেছেন, “দোকান খুললেও আমাদের সমস্যা সমাধান হয়নি। বেতন না পেলে খাদ্য, বাড়ি-ঘর ও শিক্ষা খরচ কীভাবে পূরণ করব?”
- 📌 শিওয়িত (১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী) বলেছেন, “যুদ্ধের কারণে আমি ইতিমধ্যে অনেক সময় হারিয়েছি। আর যদি আবার পড়াশোনা বন্ধ হয়, তাহলে আরো পিছিয়ে পড়ব।"
📰 বিস্তারিত
তিগ্রায়ের রাজধানী মেকেলে দোকান ও ব্যাংক আবার খোলা হলেও, জনতা আতঙ্কিত। ২০২০-২০২২ সালের যুদ্ধের পর থেকে তিগ্রায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। বর্তমানে ১৩৭ হাজার সরকারি কর্মচারী তাদের বেতন পায়নি। মার্চ মাসে তিগ্রায়ের অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছিল যে, ফেডারেল সরকারের বাজেট স্থানান্তর না আসায় তারা এই কর্মচারীদের বেতন প্রদান করতে পারবে না। এছাড়াও, এপ্রিল মাসে তিগ্রায়ের অর্থ বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে, ৮.৫ বিলিয়ন বির (প্রায় ৫২ হাজার মার্কিন ডলার) অর্থ সংকটের কারণে বেতন ও উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা পড়েছে।
শিক্ষা খাতেও বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তিগ্রায়ের শিক্ষার্থীরা আবারও পড়াশোনা বন্ধের ভয়ে আতঙ্কিত। এডিগ্রাতের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিওয়িত বলেছেন, “আমি ইতিমধ্যে যুদ্ধের কারণে অনেক সময় হারিয়েছি। আর যদি আবার পড়াশোনা বন্ধ হয়, তাহলে আরো পিছিয়ে পড়ব।” কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এডিস আবাবায় স্থানান্তরিত হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এডিস আবাবার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বছরের শিক্ষার্থী আবেল বলেছেন, “আমি চাইনি যে আমি যাব, কিন্তু আমার পড়াশোনা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। আমি এডিস আবাবায় গিয়ে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। আমি শুধু আমার পড়াশোনা শেষ করতে চাই।"
সীমান্তে ইরিত্রীয় সৈন্য প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়েছে, যা তিগ্রায়ের যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ৮ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ইরিত্রীয় সৈন্য এডিগ্রাত ও ইদাগা হামুসে প্রবেশ করেছে। তবে এই তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, ইরিত্রীয় সৈন্য জালাম্বেসা সীমান্ত পার করেছে। ১৩ অক্টোবর, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইথিওপীয় সরকারের সৈন্য জালাম্বেসায় প্রবেশ করেছে। তবে এখনও স্পষ্ট নয় যে, সেখানে ইরিত্রীয় সৈন্য কি তিগ্রায়ের বিরোধী সৈন্য ছিল।
"দোকান খুললেও আমাদের সমস্যা সমাধান হয়নি। বেতন না পেলে খাদ্য, বাড়ি-ঘর ও শিক্ষা খরচ কীভাবে পূরণ করব?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেকেলে, এডিগ্রাত, জালাম্বেসা, ইদাগা হামুস (তিগ্রায়, ইথিওপিয়া)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: গব্রেগিজাবহের (মেকেলের সরকারি কর্মচারী), শিওয়িত (১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী), আবেল (তৃতীয় বছরের শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩৭,০০০ (বেতন পায়নি), ৮.৫ বিলিয়ন বির (অর্থ সংকট), ৫,০০০ (শিক্ষার্থী স্থানান্তরিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!