📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক দুই দফা ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। ৫০ বছর বয়সী পাইককে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রশ্ন উঠেছে যে, বেঁচে যাওয়া পাইককে আবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে কি না?
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টায় দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া নারী ক্রিস্টা পাইকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি ও চিকিৎসাগত জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাইককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রচেষ্টায় পেন্টোবারবিটালের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী পাইক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্রিস্টা পাইক (৫০) টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টায় দুই দফা ইনজেকশনেও বেঁচে যান — ২০০ বছরেরও বেশি সময়ে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম নারী হিসেবে তাঁর নাম যুক্ত হতে যাচ্ছিল।
- 📌 ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমার হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 গভর্নর বিল লি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে তৃতীয় পক্ষের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।
- 📌 পাইকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের প্রক্রিয়ায় তিনি এমন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।
- 📌 ১৯৪৬ সালে লুইজিয়ানায় ১৬ বছর বয়সী উইলি ফ্রান্সিস বৈদ্যুতিক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ডের চেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
বুধবার সকালে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তের আইনি আবেদনের কারণে তা কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ পরিষ্কার করলে সন্ধ্যায় প্রক্রিয়া শুরু হয়। গণমাধ্যমের সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাইককে প্রথম ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজও প্রয়োগ করা হলেও তিনি মারা যাননি। বরং তাঁকে শ্বাস নিতে এবং নাক ডাকতে শোনা যায়। টেনেসির সংশোধন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত প্রটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অস্টিন সারাট বলেছেন, পাইকের ঘটনা আইনি ও চিকিৎসাগতভাবে নজিরবিহীন। তাঁর শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রবেশ করার পরও তিনি বেঁচে গেছেন। এখন তাঁর চিকিৎসার ফল, তৃতীয় পক্ষের তদন্ত এবং আদালতে পরবর্তী আইনি লড়াই তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। পাইকের আইনজীবীরা শুধু তদন্ত নয়, তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ধরনের ঘটনার নজির খুবই বিরল। ১৯৪৬ সালে লুইজিয়ানায় ১৬ বছর বয়সী উইলি ফ্রান্সিস বৈদ্যুতিক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ডের চেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি এবং দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাঁর মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালে ওহাইওতে রোমেল ব্রুমের প্রাণঘাতী ইনজেকশনও ব্যর্থ হয়েছিল, তবে আদালত পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ডের প্রচেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে মানেনি।
"ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের প্রক্রিয়ায় পাইক এমন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, যা মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে নজিরবিহীন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টেনেসি, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্রিস্টা পাইক (৫০), বিল লি (গভর্নর), অস্টিন সারাট (বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর, ১৮ বছর, ২০০ বছর, ৭ শতাধিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!