📌 খাদ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা তান্হা ইসলাম জার্মানির বিশেষ সফরে গিয়ে দেশটির খাদ্যসংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও খাদ্য উৎপাদনের পেছনের শ্রম সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া লাভ করেন। সাত দিনের সফরে তিনি ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে শুরু করে বার্লিনের রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় বাজার পরিদর্শন করেন
খাদ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা তান্হা ইসলাম জার্মানির বিশেষ সফরে গিয়ে দেশটির খাদ্য-সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার গভীর বোঝাপড়া লাভ করেছেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্নাতক তান্হা প্রায় দশ বছর ধরে খাবার নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেছেন, জার্মানির এ সফরটি ছিল তার জীবনের অন্যতম শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা, যেখানে তিনি দেখেছেন খাবার কীভাবে একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপনের সাথে জড়িয়ে আছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জার্মানির বিশেষ সফরে অংশগ্রহণকারী ১৫ জনের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন খাদ্য কনটেন্ট নির্মাতা তান্হা ইসলাম।
- 📌 ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘কালিনারি ট্রেন্ডস ইন জার্মানি’ শীর্ষক সফরে তিনি জার্মানির খাদ্য উৎপাদন, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার গভীর বোঝাপড়া লাভ করেন।
- 📌 ১০ জন রন্ধনশিল্পী ও ৫ জন কনটেন্ট নির্মাতা-ফুড ফটোগ্রাফারের সাথে যাত্রায় তিনি ব্ল্যাক ফরেস্টের স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে বার্লিনের রেস্তোরাঁ ও জৈব খামার পরিদর্শন করেন।
- 📌 ব্ল্যাক ফরেস্ট কেকের স্বাদ সম্পর্কে তিনি নতুন বোঝাপড়া পেয়েছেন, যা দেশে খাওয়া কেকের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
- 📌 জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সফর আয়োজন করে, যেখানে খাবারকে মানুষের মনোজগত ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়।
📰 বিস্তারিত
তান্হা ইসলাম জার্মানির খাদ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সফরে গিয়েছিলেন ‘কালিনারি ট্রেন্ডস ইন জার্মানি’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে। এই সফরে তিনি জার্মানির খাদ্য উৎপাদন, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া লাভ করেছেন। সাত দিনের এই সফরে তিনি বার্লিনের ঐতিহাসিক রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ব্ল্যাক ফরেস্টের স্থানীয় বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেছেন।
সফরের প্রথম দিনেই তান্হা বার্লিনের ক্ল্যারশেস বলহাউসের লুনা ডি’ওরো রেস্তোরাঁতে স্বাগত নৈশভোজে অংশ নেন। রন্ধনশিল্পী টোবি বেকের তৈরি আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য ও তাদের ইতিহাস সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। পরদিন গ্যেটে ইনস্টিটিউটে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সবাই নিজ নিজ সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ও কাজ তুলে ধরেন।
তান্হা বলেছেন, “জার্মানির খাবার বুঝতে শুধু রেস্তোরাঁয় গেলেই হয় না। জানতে হয় মানুষ কোথা থেকে কী কিনছে, কোন খাবার বেছে নিচ্ছে।” এই কারণে আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বাজার ঘুরে দেখার পর্বও আয়োজন করেন। কম দামের স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে অভিজাত কাদেওয়ে শপিং সেন্টার পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় খাবার ও পণ্যের বৈচিত্র্য দেখেছেন তিনি।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বার্লিনের গাটোর এলাকার ভিয়ারফেল্ডারহফ জৈব খামার পরিদর্শন। সেখানে শস্য থেকে আটা তৈরি করে রুটি বানানোর কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি জার্মানদের দৈনন্দিন খাবারে রুটির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। নিরামিষ ও উদ্ভিদনির্ভর খাবারের নানা ধরনও চেখে দেখেছেন তিনি।
"জার্মানরা মনে করেন, খাবার মানুষের চিন্তাভাবনা ও মনোজগতে প্রভাব ফেলে। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো খাবার পরিবেশনের বিষয়টিকেও তাঁরা গুরুত্ব দেন। খাবার যে শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি ও আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলারও একটি মাধ্যম, এই সফরে তা নতুনভাবে বুঝেছি।"
বার্লিনে তিন দিন কাটানোর পর অংশগ্রহণকারীরা ট্রেনে করে ফ্রাইবুর্গের উদ্দেশে রওনা হন। ফ্রাইবুর্গের শান্ত ও মনোরম পরিবেশে তান্হা স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থা ও মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে নতুন বোঝাপড়া পেয়েছেন। সফরের হাইলাইট হিসেবে তিনি ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক বানানোর কর্মশালায় অংশ নেন। তিনি বলেন, “ব্ল্যাক ফরেস্ট আমার খুব পছন্দ। তবে জার্মানিতে গিয়ে বুঝলাম, দেশে আমরা যেই ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক খাই, সেটার সঙ্গে ওদের ব্ল্যাক ফরেস্টের স্বাদের কোনো মিল নেই। একেবারেই আলাদা।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বার্লিন, ফ্রাইবুর্গ, ব্ল্যাক ফরেস্ট (জার্মানি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তান্হা ইসলাম, রন্ধনশিল্পী টোবি বেক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (খাদ্য বিষয়ক কাজ), ১০টি দেশ (ভ্রমণ), ১৫ জন (অংশগ্রহণকারী), ১০ জন (রন্ধনশিল্পী), ২০-২৬ সেপ্টেম্বর (সফর তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!