📌 ২০২০ সালে মুম্বাইয়ে সুশান্ত সিং রাজপুতের ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর মামলা আবারও তদন্তের মুখে। পরিবারের দাবি, হত্যা করা হয়েছিল; বিচারপতিরা পুলিশের তদন্তের অসঙ্গতি ও অযৌক্তিক বিলম্বের সমালোচনা করেছেন। সিবিআই নতুন তদন্ত শুরু করেছে
২০২০ সালের জুন মাসে মুম্বাইয়ে সুশান্ত সিং রাজপুতের ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর মামলা আবারও তদন্তের মুখে। বোম্বে হাইকোর্ট সিবিআইকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পরিবারের দাবি, তার মৃত্যু ছিল হত্যা, কিন্তু পুলিশ আত্মহত্যা বলে দাবি করেছিল। বিচারপতিরা পুলিশের তদন্তের অসঙ্গতি ও অযৌক্তিক বিলম্বের বিষয়টি সমালোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিশা সালিয়ান (২৮) ২০২০ সালের ৪ জুন মুম্বাইয়ের একটি ভবনের ১২তম তলা থেকে পড়ে মারা যান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যা উল্লেখ করে, কিন্তু পরিবার দাবি করে হত্যা করা হয়েছিল।
- 📌 সতীশ সালিয়ান (দিশার বাবা) দাবি করেন, পুলিশ প্রমাণ নষ্ট করেছে এবং মিথ্যা গল্প তৈরি করেছে। তিনি বলেন, তার মেয়ের মৃত্যুতে জড়িত থাকতে পারে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও মন্ত্রীরা।
- 📌 বোম্বে হাইকোর্ট সিবিআইকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সারাং ভি কোটওয়াল ও রঞ্জিতসিংহ রাজা ভোঁসলে পুলিশের তদন্তের অসঙ্গতি ও অযৌক্তিক বিলম্বের বিষয়টি সমালোচনা করেছেন।
- 📌 সিবিআই নতুন তদন্ত শুরু করেছে। দিশার মৃত্যুর সময় তিনি কোয়ান এন্টারটেইনমেন্ট নামের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন এবং সুশান্ত সিং রাজপুতকে প্রতিনিধিত্ব করতেন। পরিবারের দাবি, তিনি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির আপত্তিকর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন।
- 📌 সুশান্ত সিং রাজপুত দিশার মৃত্যুর পর ইনস্টাগ্রামে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছিলেন, “এটি অত্যন্ত বিধ্বংসী সংবাদ। দিশার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।”
📰 বিস্তারিত
২০২০ সালের ৪ জুন কোভিড-১৯-এর প্রাণঘাতী ঢেউ ভারতে ছড়িয়ে পড়ার সময়, দিশা সালিয়ান তার বাবা সতীশ সালিয়ানকে একটি পুলিশ হেল্পলাইনে ফোন করে জেনে বলতে বলেছিলেন যে তার ভ্রমণ করা নিরাপদ হবে কি না। তিনি একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারণার শুটিং নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং অগ্রিম পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া চেকের একটি ছবি তাঁর বাবা-মাকে দেখিয়েছিলেন। এটাই ছিল শেষবার, যখন সালিয়ান দম্পতি তাদের ২৮ বছর বয়সী কন্যাকে জীবিত দেখেছিলেন। আট ও নয়ই জুনের মধ্যবর্তী রাতে সতীশ সালিয়ানকে পুলিশ একটি হাসপাতালে ডেকে পাঠায়, যেখানে তিনি জানতে পারেন তার একমাত্র সন্তান মারা গেছেন।
পুলিশ জানায়, দিশা সালিয়ান মুম্বাইয়ের একটি ভবনের ১২তম তলা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে দিশার বন্ধুরা বলেছিলেন, তিনি মদ্যপান করেছিলেন এবং দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশ জানায়, তাদের তদন্তে দেখা গেছে তার মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল। কিন্তু সতীশ সালিয়ান দাবি করেন, তার মেয়ের মৃত্যু আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নয় এবং দাবি করেছেন, তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা প্রমাণ নষ্ট করেছেন এবং আত্মহত্যার একটি মিথ্যা গল্প তৈরি করেছেন।
বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি সারাং ভি কোটওয়াল ও রঞ্জিতসিংহ রাজা ভোঁসলে দোসরা সেপ্টেম্বরের এক আদেশে পুলিশের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত তদন্তে "খুব বেশি স্পষ্ট অসঙ্গতি" রয়েছে। বিচারকরা জোর দিয়ে বলেন, তারা কোনো "ক্ষুদ্র বিচার" করছেন না, তবে যোগ করেন যে "পুলিশের পরিচালিত তদন্ত যত উত্তর দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছে"। তারা পুলিশি নথিপত্র তৈরিতে অযৌক্তিক বিলম্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এছাড়া যে স্থানে মরদেহ পড়েছিল, সেখানে কোনো রক্ত পাওয়া যায়নি এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত আঘাতগুলো পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয় না বলেও মন্তব্য করেন।
বিচারপতিরা আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ ঘটনাটিকে শুধু সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে তদন্ত করেছে এবং কোনো এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) দায়ের করেনি। অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের এ ধরনের নথি প্রস্তুত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত সপ্তাহে সিবিআই একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং সতীশ সালিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন তদন্ত শুরু করেছে।
"এটি মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দিশা সালিয়ান, সতীশ সালিয়ান, সুশান্ত সিং রাজপুত, বিচারপতি সারাং ভি কোটওয়াল, বিচারপতি রঞ্জিতসিংহ রাজা ভোঁসলে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ বছর (দিশার বয়স), ১২তম তলা (মৃত্যু স্থান), ৪ জুন ২০২০ (মৃত্যু তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!