📌 জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, এল নিনো ইতিহাসের সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা এবং সুপার এল নিনোর কারণে ২০২৬-২৭ সালের শীতকালে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বন্যা ঝুঁকি বেড়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃত্যু হতে পারে
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা শনাক্ত করেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তীব্রতায় এল নিনো পরিস্থিতি। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই জলবায়ু ঘটনার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পৌঁছেছে, যা ১৯৪৯ সাল থেকে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ‘সুপার এল নিনো’ উত্তর গোলার্ধের শীতকালজুড়ে অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অস্বাভাবিকতা ঘটাতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, এল নিনো ইতিহাসের সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে — ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা
- 📌 বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস দিয়েছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত এল নিনোর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে
- 📌 শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃত্যু হতে পারে
- 📌 ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস সার্ভিসের তথ্য: ২০২৬ সালের আগস্ট বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে
- 📌 ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ
📰 বিস্তারিত
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জানিয়েছে, এল নিনো পর্যবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলে অভিহিত করেছেন। এল নিনো হলো এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন (ইএনএসও) চক্রের উষ্ণ পর্যায়, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর ঘটে। এই ঘটনার কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক প্যাটার্ন ব্যাহত হয়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস দিয়েছে, এল নিনোর তীব্রতা ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও বাড়তে পারে। মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ। তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি ১৯৫০ সালের পর অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, এল নিনো সংশ্লিষ্ট তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। গবেষকরা বলেছেন, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতি উষ্ণ দিনের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ বাড়তে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস বৈশ্বিক উষ্ণতার রেকর্ডে ২০২৩ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল। ওই দুই মাসে বিশ্বজুড়ে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুর গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোপার্নিকাসের সেপ্টেম্বর মাসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, এল নিনোর তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
"সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। একই সঙ্গে ১৯৫০ সালের পর এটি অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাপান, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশ্বব্যাপী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাপানের আবহাওয়া সংস্থার বিশেষজ্ঞরা, ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (তাপমাত্রা বৃদ্ধি), ১০০ শতাংশ (সম্ভাবনা), ৪ লাখ ৫১ হাজার (মৃত্যু), ৪৪ শতাংশ (উষ্ণ দিন বৃদ্ধি), ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (বৈশ্বিক তাপমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!