📌 সুদানের তিন বছর ধরে চলমান যুদ্ধে রোগীরা খাদ্য ও ঔষধের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ডায়াবেটিস রোগী হাসনাত আল-রাশিদের মতো অনেকের দৈনন্দিন জীবনে ঔষধের অভাব ও খরচের কারণে স্বাস্থ্য আরও খারাপ হচ্ছে
সুদানের তিন বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে রোগীরা খাদ্য ও ঔষধের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এই যুদ্ধে রোগীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসনাত আল-রাশিদ (৪৮), যিনি ১৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসের শিকার, বলেছেন, যুদ্ধের কারণে তার চিকিৎসা পাওয়ার লড়াই আরও কঠিন হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, “আমার রক্তের শর্করা মাত্রা উচ্চ বা নিম্ন হলে ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন হয়।”
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হাসনাত আল-রাশিদ** (৪৮) ১৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসের শিকার, যুদ্ধের কারণে তার চিকিৎসা পাওয়ার লড়াই আরও কঠিন হয়ে গেছে।
- 📌 **খার্টুম উত্তর থেকে পোর্ট সুদানে পালিয়ে যাওয়া** হাসনাতের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে, দৈনিক ইনসুলিনের প্রয়োজন পড়েছে।
- 📌 **ইনসুলিনের খরচ** ৭০,০০০ সুদানি পাউন্ড ($৮) থেকে শুরু করে, কিন্তু রেফ্রিজারেটর না থাকায় তিনি দৈনিক ১৮০,০০০ পাউন্ড ($২০) খরচ করে ইনসুলিন সংরক্ষণ করছেন।
- 📌 **ফাতিমা আদাম** (৭৫) হাইপারটেনশন ও থাইরয়েডের কারণে চিকিৎসা খরচে দিনে দিনে কষ্ট পাচ্ছেন। যুদ্ধের কারণে তার মা **৬টি ঔষধ** নিয়েই থাকতে হয়, যা আগে **জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা ফান্ড** কর্তৃক কভার করা হতো।
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মসূচি** বলেছে, যুদ্ধের কারণে সুদানের আয় পর্যায়ে ১৯৯০-এর দশকের মতো পৌঁছেছে।
📰 বিস্তারিত
হাসনাত আল-রাশিদ ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুদানের সামরিক ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে সংঘাতের কারণে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। তিনি তার বাড়ি থেকে **হাজ ইউসিফ, খার্টুম উত্তর** থেকে **উম্ম দাও বান, খার্টুম রাজ্য**ে পালিয়ে যান। তিনি বলেছেন, “আমি দিনের পর দিন ঔষধ ছাড়াই থাকতাম এবং ডায়াবেটিসের জন্য উপযুক্ত খাবার খেতাম না। আমি **আসিদা** নামের একটি ঐতিহ্যবাহী সুদানি খিচুড়ি খেতাম, যা আমার অবস্থার জন্য উপযুক্ত ছিল না।”
হাসনাতের ডায়াবেটিসের কারণে তার পায়ে দু’বার অপারেশন করতে হয়েছে। তিনি **জেজিরা রাজ্যের রুফা, ওয়াদ মাদানি ও আল-হাসাহিসা** হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই এলাকায় যুদ্ধ শুরু হলে তিনি আবার পালিয়ে যান এবং **পোর্ট সুদান**ে পৌঁছান, যেখানে যুদ্ধের প্রভাব কম ছিল। তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে তিনি দৈনিক ইনসুলিনের প্রয়োজন পড়েছে।
হাসনাতের ডাক্তার সুপারিশ করেছেন **ইনসুলিন পেন** ব্যবহার করা, যা ত্বকে ইনসুলিন ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। তিনি মাসে এক বা দুইটি ডিভাইসের প্রয়োজন, কিন্তু এর খরচ **৭০,০০০ সুদানি পাউন্ড ($৮)**। তিনি এই খরচ বহন করতে পারেন না, তাই তিনি **ইনসুলিনের বোতল** কিনে থাকেন, যার খরচ **১৭,০০০ সুদানি পাউন্ড ($১.৮০)**। তবে এই বোতল সংরক্ষণে **দৈনিক বরফের প্রয়োজন** হয়, যা মাসে **১৮০,০০০ পাউন্ড ($২০)** খরচ করে। তিনি বলেছেন, “এটি মাসে এক মাস বা তার কম সময় স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু আমার রেফ্রিজারেটর নেই, তাই ইনসুলিন সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেছেন, “আমি নিয়মিত **দর্দনাশক ও ভিটামিন**ও নিতে পারি না, যা ডায়াবেটিসের জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।”
ফাতিমা আদাম (৭৫) **পোর্ট সুদান হাসপাতালে** ভর্তি ছিলেন। তার হাইপারটেনশন তার হৃদয়েও প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলতে পারেননি, কিন্তু তার মেয়ে **আইশা** বলেছেন, “আমার মা **৬টি ঔষধ** নিয়েই থাকেন, কারণ হাইপারটেনশন তার হৃদয় ও থাইরয়েডের অবস্থাকে আরও খারাপ করেছে। যুদ্ধের কারণে ঔষধের দাম বেড়েছে, যা আমাদের পরিবারকে আরও কষ্ট দিচ্ছে।”
আইশা বলেছেন, আগে তার মা **জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা ফান্ড** থেকে ঔষধ পেতেন, যেখানে তিনি মোট খরচের **১/৪ অংশ** দিতেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই ফান্ড আর তার ঔষধ কভার করে না। তার চিকিৎসা ও পরিবারের খরচের দায়িত্ব তার ভাই নিচ্ছেন, যিনি **দৈনিক শ্রমিক** হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেছেন, “কখনো কখনো আমার ভাই কাজ পায় এবং আমরা মাসের জন্য ঔষধ কিনতে পারি, কিন্তু অন্য সময় আমরা খালি হাতে ফিরে আসি।”
"আমার রক্তের শর্করা মাত্রা উচ্চ বা নিম্ন হলে ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন হয়।"
"ইনসুলিনের বোতল মাসে এক মাস বা তার কম সময় স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু আমার রেফ্রিজারেটর নেই, তাই ইনসুলিন সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
"আমার মা **৬টি ঔষধ** নিয়েই থাকেন, কারণ হাইপারটেনশন তার হৃদয় ও থাইরয়েডের অবস্থাকে আরও খারাপ করেছে। যুদ্ধের কারণে ঔষধের দাম বেড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুদান (খার্টুম উত্তর, উম্ম দাও বান, জেজিরা রাজ্য, পোর্ট সুদান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসনাত আল-রাশিদ (৪৮), ফাতিমা আদাম (৭৫), আইশা (ফাতিমার মেয়ে)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর (ডায়াবেটিসের সময়কাল), ৭০,০০০ সুদানি পাউন্ড ($৮) (ইনসুলিন পেনের খরচ), ১৭,০০০ সুদানি পাউন্ড ($১.৮০) (ইনসুলিন বোতলের খরচ), ১৮০,০০০ সুদানি পাউন্ড ($২০) (দৈনিক বরফের খরচ), ৬টি ঔষধ (ফাতিমার নিয়মিত ঔষধ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!