📌 সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপদে পড়েছে। সংঘাতের চতুর্থ বছরে ৫৯ হাজারাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই হামলাগুলিকে মানবতাবিরোধী বলে ঘোষণা করেছে
সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এই হামলায় শিশুসহ অসংখ্য মানুষের জীবন বিপদে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, খার্তুমে রবিবার একটি ড্রোন হামলায় তিনজন শিশু নিহত হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে শুক্রবার থেকে এই পর্যন্ত ১৬০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি নিহত, শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপদে পড়েছে
- 📌 পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে বাজারের নিকটে ড্রোন হামলায় ৮০ জন নিহত, আর ৪৭ জন আহত, যাদের মধ্যে ৩০ জন পরে মারা যায়
- 📌 রাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) ও সরকারি বাহিনী উভয়ই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে
- 📌 জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক বলেছেন, ‘বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে শিশুসহ নিহতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানবতাবিরোধী এবং কেন্দ্রীয় পরিষেবাগুলিকে ব্যাহত করছে’
- 📌 সুদানের বর্তমান সংঘাতের শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিলে, এবং এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজারাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে
- 📌 ১৩ মিলিয়ন মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম মানবতাবিরোধী সংকট হিসেবে বিবেচিত
📰 বিস্তারিত
সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা ক্রমবর্ধমান হারে চলছে। খার্তুমে রবিবার একটি ড্রোন হামলায় তিনজন শিশু নিহত হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে শুক্রবার থেকে এই পর্যন্ত ১৬০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলাগুলি রাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এবং সরকারি বাহিনী উভয়ই দায় স্বীকার করেছে।
সর্বশেষ হামলাটি ঘটে পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরে, যেখানে একটি ড্রোন বাজারের নিকটে একটি পরিবহন কেন্দ্রে আঘাত হানে। এই হামলায় ৮০ জন নিহত হয়। আর ৪৭ জন আহত ব্যক্তি আল-মুজলাদ শহরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পরে ৩০ জন মৃত্যুবরণ করে। এই হামলার দায় স্বীকার করে Tasis, RSF-এর স্ব-ঘোষিত প্রশাসন এবং এমার্জেন্সি লয়ার্স।
পূর্ব সুদানে, একটি সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাবার ও সেটিট ড্যামসের দিকে RSF-এর ড্রোন আক্রমণ করা হয়েছিল। এই ড্রোনগুলোকে গাদারেফ রাজ্যের ৪২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত খার্তুম থেকে আক্রমণ করা হয়েছিল। রাবার ও সেটিট ড্যামসের রক্ষণাবেক্ষণে এই আক্রমণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মঙ্গলবার, Nyala শহরে, যা দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী, একটি ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হয়, যার মধ্যে সাতজন RSF কর্মকর্তা ছিলেন। আর ২৩ জন আহত হয়। শুক্রবার, সুদানের ব্লু নাইল প্রদেশে ইথিওপিয়ার সীমান্তে একটি শরণার্থী শিবিরে RSF-এর ড্রোন হামলায় ৪১ জন নিহত হয়। এমার্জেন্সি লয়ার্স এই হামলাকে মানবতাবিরোধী বলেই ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক বলেছেন, ‘আমরা সুদানে চলমান মৃত্যুর ড্রোন হামলাগুলি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই হামলাগুলি বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপদে ফেলছে, বিশেষ করে শিশুদের। এছাড়াও, এই হামলাগুলি কেন্দ্রীয় পরিষেবাগুলিকে ব্যাহত করছে’।
সুদানের বর্তমান সংঘাতের শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিলে, যখন সামরিক নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং RSF নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগলো (হেমেদতি) পরস্পর বিরোধী হয়ে পড়েন। জুন মাসে, হেমেদতিকে অনুপস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘাত এখনও চলছে এবং এ পর্যন্ত ৫৯ হাজারাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুদের মানবাধিকার সংস্থা ACLED-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মিলিয়ন মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম মানবতাবিরোধী সংকট হিসেবে বিবেচিত। সুদানে বর্তমানে ৩৩.৭ মিলিয়ন মানুষ, যার মধ্যে ১৭.৩ মিলিয়ন শিশু, খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়াও, ৮২৫ হাজার শিশু মারাত্মক খাদ্য অপুষ্টির শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সুদানে মানবতাবিরোধী শান্তি চুক্তি এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রসারিত করার আহ্বান জানায়। তবে চীন ও রাশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা প্রসারিত করার বিরোধিতা করে।
"আমরা সুদানে চলমান মৃত্যুর ড্রোন হামলাগুলি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই হামলাগুলি বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপদে ফেলছে, বিশেষ করে শিশুদের। এছাড়াও, এই হামলাগুলি কেন্দ্রীয় পরিষেবাগুলিকে ব্যাহত করছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুদান (খার্তুম, পশ্চিম কর্ডোফান, গাদারেফ রাজ্য, দক্ষিণ দারফুর, ব্লু নাইল প্রদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্টেফান ডুজারিক (জাতিসংঘের মুখপাত্র), আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান, মোহাম্মদ হামদান দাগলো (হেমেদতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬০ জন নিহত, ৮০ জন একবারে মৃত্যু, ৪৭ জন আহত, ৩০ জন পরে মৃত্যু, ১৭ জন (৭ জন RSF কর্মকর্তা), ১৩ মিলিয়ন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে, ৫৯ হাজারাধিক মৃত্যু, ৮২৫ হাজার শিশু মারাত্মক খাদ্য অপুষ্টির শিকার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!