📌 মার্কিন আইনপ্রণেতা জন মুলেনার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে স্টারবাকসের জিনজিয়াং প্রদেশে ক্যাফে খোলা। তিনি দাবি করেছেন, উইঘুরদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চীনা সরকারের নৃশংস অভিযানের সঙ্গে মার্কিন ব্র্যান্ডের জড়িত হওয়া ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’। চীন প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে
মার্কিন কফি চেইন স্টারবাকসের জিনজিয়াং প্রদেশে ক্যাফে খোলার সিদ্ধান্ত মার্কিন আইনপ্রণেতা জন মুলেনার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তিনি দাবি করেছেন, উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখে স্টারবাকসের উপস্থিতি ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনা স্টারবাকসের জিনজিয়াং ক্যাফে খোলাকে ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’ বলে সমালোচনা করেছেন।
- 📌 তিনি দাবি করেছেন, জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে আটক করে তাদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
- 📌 চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন অভিযোগকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দাবি করেছেন, জিনজিয়াংয়ে ‘গণহত্যা’ চলছে এমন দাবি ‘আজগুবি’।
- 📌 স্টারবাকসের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান নিকল বলেছেন, স্থানীয় অভিজ্ঞতা যুক্ত করে নতুন শহরে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ক্যাফে খোলা হয়েছে।
- 📌 বিভিন্ন পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন আইনপ্রণেতা জন মুলেনা জিনজিয়াং প্রদেশের উরুমচি শহরে খোলা স্টারবাকসের দুটি ক্যাফে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই অঞ্চলে চীনা সরকারের নৃশংস অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কিন ব্র্যান্ডের উপস্থিতি হতবাক করার মতো’। মুলেনা আরও উল্লেখ করেছেন যে, জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, ‘এই অঞ্চলে কোনো মার্কিন কোম্পানির ব্যবসা করার কোনো ন্যায্য কারণ নেই’।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন মার্কিন কংগ্রেসের অভিযোগকে ‘আজগুবি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন কংগ্রেসের ওই কমিটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চীনকে আক্রমণ ও হেয় করার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে’। গুও জিয়াকুন আরও দাবি করেছেন, জিনজিয়াংয়ে ‘গণহত্যা’ চলছে এমন দাবি ‘নির্লজ্জ মিথ্যা’।
স্টারবাকসের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান নিকল গত এপ্রিলে জিনজিয়াংয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে একটি যৌথ উদ্যোগ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় অভিজ্ঞতা যুক্ত করে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ক্যাফে খোলা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে স্টারবাকসই প্রথম নয়। হিলটন, আইএইচজি, ম্যারিয়ট ও উইন্ডহ্যামের মতো আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনও জিনজিয়াংয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস স্টারবাকসকে ‘ইতিহাসের সঠিক পাশে’ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মায়া ওয়াং বলেছেন, জিনজিয়াংয়ে স্টারবাকসের উপস্থিতি চীনা সরকারের দাবিকে শক্তিশালী করে যে, ওই অঞ্চলে কোনো সমস্যা নেই।
"জিনজিয়াংয়ে স্টারবাকসের উপস্থিতি একটি আইকনিক মার্কিন ব্র্যান্ডকে উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নৃশংস অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করছে।" — **জন মুলেনা**, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জিনজিয়াং প্রদেশ (উরুমচি শহর), চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জন মুলেনা (মার্কিন আইনপ্রণেতা), গুও জিয়াকুন (চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র), ব্রায়ান নিকল (স্টারবাকসের প্রধান নির্বাহী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ লাখ উইঘুরকে আটক করা হয়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!