📌 শ্রীলঙ্কার জাফনা অঞ্চলে খননকাজে ৫৭২টি কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া গেছে। গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বেসামরিক মানুষদের মরদেহের সম্ভাব্য সন্ধান হিসেবে এটি বিবেচিত। তামিল সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে সত্য উদ্ঘাটন বিলম্বিত হতে পারে
শ্রীলঙ্কার জাফনা অঞ্চলের চেম্মানি এলাকায় শ্মশান পরিসর বাড়ানোর খননকাজে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তদন্তে এখন পর্যন্ত ৫৭২টি কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের তৃতীয় ধাপের খনন কাজ শেষ হওয়ার পর এই সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। খননকাজে শিশু ও নবজাতকসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি স্কুলব্যাগ ও একটি ফিডারও পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই গণকবর শ্রীলঙ্কায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় গণকবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্রীলঙ্কার জাফনা চেম্মানি এলাকায় খননকাজে ৫৭২টি কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শিশু ও নবজাতকসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে
- 📌 খননকাজে পাওয়া কঙ্কালের মধ্যে একটি স্কুলব্যাগ ও একটি ফিডারও পাওয়া গেছে, যা গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্ভাব্য পরিচয় দিতে পারে
- 📌 শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সময় (১৯৮৩-২০০৯) নিখোঁজ হওয়া প্রায় ২৩ হাজার মানুষের মধ্যে এই গণকবর তাদের সম্ভাব্য মরদেহের সন্ধান হতে পারে
- 📌 তামিল সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এই গণকবরের তদন্ত বিলম্বিত হতে পারে এবং সত্য উদ্ঘাটন বাধাগ্রস্ত হতে পারে
- 📌 শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই গণকবর, যেখানে তামিলদের দাবি রয়েছে গৃহযুদ্ধের সময়ের নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহের সন্ধান
📰 বিস্তারিত
শ্রীলঙ্কার জাফনা অঞ্চলের চেম্মানি এলাকায় শ্মশান পরিসর বাড়ানোর জন্য শ্রমিকেরা মাটি খুঁড়ছিলেন। খননকাজের সময় হঠাৎ মাটির নিচ থেকে একের পর এক মানুষের দেহাবশেষ বের হয়ে আসতে শুরু করে। এই ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয় এবং গত মাসে প্রত্নতাত্ত্বিকদের তৃতীয় ধাপের খনন কাজ শেষ হওয়ার পর ৫৭২টি কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া যায়। এই গণকবর শ্রীলঙ্কায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় গণকবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বেসামরিক মানুষদের মরদেহের সম্ভাব্য সন্ধান হিসেবে এই গণকবর বিবেচিত। জাফনায় গণকবর থাকা নিয়ে আগে থেকেই কানাঘুষা ছিল। গৃহযুদ্ধের সময় এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়া এক সেনাসদস্য বলেছিলেন যে, সেখানে শত শত মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, এসব মরদেহ গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বেসামরিক মানুষদের।
শ্রীলঙ্কায় ২৬ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন, যাঁদের বেশির ভাগই তামিল। নিরাপত্তা বাহিনী ও তামিল টাইগার উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই নৃশংসতা ও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। জয়ারুবি জয়াবালানের বাবাও এই নিখোঁজদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি ও তাঁর মতো অন্য পরিবারগুলো আশা করছেন, তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে ঠিক কী হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এই গণকবরের মধ্যেই থাকতে পারে।
তামিল সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এই গণকবরের তদন্ত বিলম্বিত হতে পারে এবং সত্য উদ্ঘাটন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তামিলদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে তারা গৃহযুদ্ধের সময়ের নিখোঁজের ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা মনে করেন, এই গণকবরে গৃহযুদ্ধের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের মরদেহ রয়েছে।
"এই গণকবরে গৃহযুদ্ধের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের মরদেহ থাকতে পারে। আমরা সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের কারণে এই ঘটনাটি মানুষের মনোযোগের আড়ালে চলে যাবে এমন আশঙ্কা আমাদের রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চেম্মানি এলাকা, জাফনা, শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তামিল সম্প্রদায়, জয়ারুবি জয়াবালানের বাবা, সেনাসদস্য, প্রত্নতাত্ত্বিকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৭২টি কঙ্কাল, ২৬ বছর গৃহযুদ্ধ, ১ লাখ নিহত, ২৩ হাজার নিখোঁজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!