📌 দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি জানানোর পর সিজেপির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দেন। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীও এই পদক্ষেপকে কাপুরুষতার লক্ষণ হিসেবে সমালোচনা করেন
দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও সীমিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিলের দাবি জানানোর পর সিজেপির (ককরোচ জনতা পার্টি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের যুক্তি মেনে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে এই সাজা প্রদান করা হয়। তবে দলের অন্য নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে — শর্ত হলো তিনি শান্তি ভঙ্গ করবেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লোহার ফটক টপকায় সিজেপির আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে ৫ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা যন্তর মন্তরে ঢোকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।
- 📌 ১০-১২ জন সমর্থকের সঙ্গে তারা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ ও কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছিলেন।
- 📌 পুলিশের দাবি: সিজেপি নেতারা ফোন করে লোক জড়ো করে বিক্ষোভ দেখানোর জায়গায় ঢুকে পড়েছেন। আগেও শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছিলেন।
- 📌 সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দেন এবং জরুরি অবস্থা জারি করার আহ্বান জানান।
- 📌 কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ‘এক্স’-এ লিখেন: শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা উড়ানোর কোনো অপরাধ নেই, জেলে পাঠানো কাপুরুষতার লক্ষণ।
- 📌 সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে রেষারেষি থাকলেও উভয় দলের লক্ষ্য এক — জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে লড়াই।
📰 বিস্তারিত
গত মঙ্গলবার সকালে আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডে পুলিশের চোখ এড়িয়ে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন। চত্বরে ঢোকার জন্য লোহার ফটক টপকিয়ে তারা সেখানে প্রবেশ করেন। সিজেপি নেতারা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও সীমিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিলের দাবি জানানোর পাশাপাশি ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ তাদের আটক করে দিনভর রাখার পর গভীর রাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সিজেপির অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
বুধবার সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয় তাদের। সিজেপির আইনজীবী অভীষ্ট হেলা গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের যুক্তি মেনে ম্যাজিস্ট্রেট আশুতোষ ও সৌরভকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশের দাবি, সিজেপি নেতারা ফোন করে যন্তর মন্তরে লোক জড়ো করেছেন এবং বিক্ষোভ দেখানোর জায়গায় ঢুকে পড়েছেন। তারা আগেও শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছিলেন — শর্ত ছিল শান্তি ভঙ্গ করবেন না। কিন্তু তারা সেই শর্ত ভঙ্গ করেছেন বলে পুলিশের যুক্তি।
সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ করে এক বার্তায় বলেন, ‘ওদের কী অপরাধ? ওরা তো যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে? প্রধানমন্ত্রীজি, একটু সাহস দেখান। এভাবে ভিন্নমত দমানোর বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে বরং খোলামেলা জরুরি অবস্থা জারি করে দিন। কাপুরুষের মতো কৌশলের আড়ালে লুকানোর দরকার নেই।’
"শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোটা কোনো অপরাধ নয়। সে জন্য তরুণদের জেলে পাঠানোটা কাপুরুষতার লক্ষণ।"
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও ‘এক্স’-এ লিখেন, ‘ছাত্র, যুবা, সাংবাদিক, ইন্ডিয়া জোট—ব্যানার ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক। সবার বিক্ষোভই এক। নাগরিকেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার চাইছে। যন্তর মন্তর এ দেশের জনগণের। আমরা ফের তা উদ্ধার করব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস, অভিজিৎ দিপক, রাহুল গান্ধী, জ্ঞানেশ কুমার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ দিন (জেল হেফাজত), ১০-১২ জন (সমর্থক), ১১ টা (রাহুলের বার্তা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!