📌 চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিউইয়র্কে যাননি, বরং জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো তিনি সাধারণ পরিষদে সরাসরি যোগ দেননি। এছাড়াও, চীন নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে জাতিসংঘের ভূমিকা এড়িয়ে চলেছে
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিউইয়র্কে যাননি, ফলে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি যোগ দেননি। ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী নেপথ্য কারণ রয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে। শির পরিবর্তে, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিউইয়র্কে যাননি, ফলে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সরাসরি যোগ দেননি — প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালের পর এই ঘটনা ঘটেছে।
- 📌 ২০১৫ সালের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শি জিনপিং সর্বশেষ নিউইয়র্কে যান এবং সশরীরে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
- 📌 ২০২১ সাল থেকে শি জিনপিং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি যোগ দেননি — ২০২১ সালে তিনি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন।
- 📌 চীন নিজস্ব উদ্যোগ (যেমন: গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এবং ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) ঘোষণা করে জাতিসংঘের ভূমিকা এড়িয়ে চলেছে।
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, শি জিনপিং জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেননি — যা চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি যোগ দেননি। তার পরিবর্তে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দ্য ডিপ্লোম্যাটের তথ্য অনুযায়ী, শি প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো মূল ভূখণ্ড সফর করছেন, কিন্তু জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক আয়োজনে যোগ দিতে উপকূল ধরে নিউইয়র্কে যাওয়ার জন্য ‘বাড়তি সময় ব্যয়’ করছেন না। যদিও নিউইয়র্কে যেতে তার বিমানে মাত্র এক ঘণ্টার মতো সময় লাগত।
২০১৫ সালের পর শি জিনপিং প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি যোগ দেননি। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি নিউইয়র্কে যান এবং সশরীরে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। সেটিই ছিল তার প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র সরাসরি ভাষণ। উল্লেখ্য, ওই সফরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে শির সর্বশেষ রাষ্ট্রীয় সফরও। তখন তার সফরসূচির অংশ হিসেবে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকও করেছিলেন তিনি।
২০২১ সালে শি জিনপিং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। ওই ভাষণে তিনি চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা দেন। এরপর থেকে তিনি সাধারণ পরিষদের সামনে আর কোনো ভাষণ দেননি। গত বছরের ৮০তম অধিবেশনেও তিনি যোগ দেননি। চীন গোলসংখ্যার বার্ষিকীকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং বিশেষ তারিখের সঙ্গে বিদেশ সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নকে যুক্ত করে।
জাতিসংঘের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শির উপস্থিতি ছিল চীনের নেতা হিসেবে জিয়াং জেমিনের পর থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিতির একটি ঐতিহ্য। ফলে ২০২৫ সালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শির অনুপস্থিতি আরও বেশি চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে।
চীন এখন জাতিসংঘেও বড় বৈশ্বিক উদ্যোগ ঘোষণা করা বন্ধ করে দিয়েছে। ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভার্চুয়াল ভাষণের মাধ্যমে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করেছিলেন শি। কিন্তু ২০২৫ সালে তিনি নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করেন চীনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে, যা ইউএনজিএর এক মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এছাড়াও, চীন নিজস্ব ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও) প্রতিষ্ঠা করেছে। সংস্থাটি ‘একটি স্বাধীন আন্তঃসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এগিয়ে নেয়া’। এদিকে, ট্রাম্প যখন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমিয়ে দিচ্ছেন, তখন ঘাটতি পূরণে চীন এগিয়ে আসেনি। জাতিসংঘের নির্ধারিত চাঁদার অর্থ পরিশোধে চীন নিজেও দীর্ঘদিন ধরে দেরি করে আসছে।
"চীন এখন জাতিসংঘের ভূমিকা এড়িয়ে চলেছে এবং নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় নিজের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), বেইজিং (চীন), যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শি জিনপিং, ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বারাক ওবামা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১তম (জাতিসংঘের অধিবেশন), ২৪-২৬ সেপ্টেম্বর (সফর সময়কাল), ৭০তম (২০১৫ সালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!