📌 দুর্নীতির অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পদত্যাগ করেছেন। বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর একটি রেলস্টেশনে ঘটা বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যুর পর
দুর্নীতির অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী থাকা ভুসিচের এই পদত্যাগ দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি আগামীকাল (সোমবার) সকালে দায়িত্ব পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদত্যাগের কারণ: দুর্নীতির অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ পদত্যাগ করেছেন।
- 📌 নির্বাচনের প্রস্তুতি: ভুসিচ আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পদত্যাগ করেছেন।
- 📌 বিক্ষোভের সূত্রপাত: ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর একটি রেলস্টেশনে কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়।
- 📌 ক্ষমা প্রদান: প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিকের তিনি ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন, যার মধ্যে বিক্ষোভের ঘটনায় দণ্ডিত ২৩ জনও রয়েছেন।
- 📌 পদত্যাগের পর: ভুসিচের ঘনিষ্ঠ মিত্র পার্লামেন্ট স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
- 📌 বিক্ষোভকারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ: ‘স্টুডেন্টস উইন’ ব্যানারে ২৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষক ও পেশাজীবী।
📰 বিস্তারিত
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আগামীকাল (সোমবার) সকালে আমি আমার দায়িত্ব পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করব। এই ভবনে আজই আমার শেষ সন্ধ্যা।’
ভুসিচের পদত্যাগের পিছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছেন। বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনে কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর। এরপর থেকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভুসিচের পদত্যাগের পর পার্লামেন্ট স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এর অর্থ হলো, এ বছরের শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার জনগণকে দুবার ভোট দিতে হবে।
‘স্টুডেন্টস উইন’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাদের সমর্থন দিচ্ছে কয়েকটি বিরোধী দল, যার মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টিও রয়েছে। একসময় সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ‘স্টুডেন্টস উইন’ ২৫০ জন প্রার্থীর তালিকা দিয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পেশাজীবী। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ নিয়ে তদন্ত, দুর্নীতি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
"আমি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আগামীকাল সকালে আমি আমার দায়িত্ব পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করব। এই ভবনে আজই আমার শেষ সন্ধ্যা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেলগ্রেড, সার্বিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেকসান্দার ভুসিচ, আনা ব্রনাবিচ, বরিস তাদিচ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর (ভুসিচের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ), ২৫ অক্টোবর (নির্বাচন), ৪৯ জন (ক্ষমা করা), ২৩ জন (বিক্ষোভে দণ্ডিত), ১৬ জন (মৃত্যু), ২৫০ জন (প্রার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!