📌 সের্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলনের সর্বশেষ র্যালিতে অংশ নিলেন। তারা ২০২৬ সালের সার্বিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন নেতা আলেক্সান্ডার ভুচিচের দলকে পরাজিত করার আশায় একত্রিত হয়েছেন। ছাত্রদের পতাকা ও শব্দগুঞ্জে ভরপুর ছিল বেলগ্রেডের স্লাভিয়া স্কয়ার
সের্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে আজ (শুক্রবার) হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলনের সর্বশেষ র্যালিতে অংশ নিলেন। তারা ২০২৬ সালের সার্বিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন নেতা আলেক্সান্ডার ভুচিচের ১৪ বছরের শাসনকে সমাপ্ত করার আশায় একত্রিত হয়েছেন। এই র্যালি ছিল সের্বিয়ার ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিরোধী আন্দোলনের সর্বশেষ বড়ো সমাবেশ, যা তাদের লক্ষ্য হিসেবে ভুচিচের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (SNS) পরাজিত করার জন্য সংগঠিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বেলগ্রেডের স্লাভিয়া স্কয়ারে "ছাত্ররা জিতছে" পতাকা ও শব্দগুঞ্জে ভরপুর ছিল র্যালি
- 📌 ২৫০ জন ছাত্র-নেতৃত্বাধীন প্রার্থী "ছাত্র তালিকা" (Student List) কর্তৃক সার্বিক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন
- 📌 ২০২৪ সালের নভি সাদ রেলওয়ে দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন নির্বাচনী লড়াইতে রূপ নিয়েছে
- 📌 ভুচিচের দলকে "গোপনীয়তা ও ভ্রষ্টাচার" বিরোধী প্ল্যাটফর্মে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ছাত্ররা
- 📌 ভুচিচের দলের বিরুদ্ধে "বিদেশী অর্থায়িত অভ্যুত্থান" দাবি করে তিনি নিজের দলের সমর্থকদেরকে "সফলভাবে পরাজিত করার" আহ্বান জানান
- 📌 রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডুসান ভুচিচেভিকের মতে, ছাত্ররা সম্ভবত ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারে
- 📌 নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ১০০-এরও বেশি সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে "নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের" অভাবের সতর্কতা জানান
📰 বিস্তারিত
বেলগ্রেডের স্লাভিয়া স্কয়ারে আজ র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ৪৭ বছর বয়সী মারিয়া নেডেলজকোভিচ রাদিক। তিনি বলেছেন, "আমার জীবনে প্রথমবারের মতো আমি বিশ্বাস করি যে সম্ভব। যুবকরা আমাকে একটি ‘নরমল কান্ট্রি’ (স্বাভাবিক দেশ) হওয়ার আশা দিয়েছে।" তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি যে এই নির্বাচনে আমরা ভুচিচের ১৪ বছরের শাসনকে শেষ করতে পারি।"
ছাত্র তালিকা (Student List) নামের এই নেতৃত্বহীন আন্দোলন ২৫০ জন প্রার্থীকে সার্বিক নির্বাচনে প্রেরণ করছে, যাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষাবিদ বা রাজনৈতিক নতুন ব্যক্তিত্ব। তাদের প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভ্রষ্টাচার ও গোপনীয়তার বিরুদ্ধে লড়াই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুগোস্লাভ গাসিক, ছাত্র তালিকার একজন প্রার্থী, র্যালিতে বলেছিলেন, "আমরা ১৪ বছরের অবমাননা, অশান্তি ও ধোখা-ধোখির সমাপ্তি আনতে যাচ্ছি। আমরা জানি, তোমরা ভালো কিছু পাওয়ার অধিকারী। ছাত্ররা জিতছে!"
২০২৪ সালের নভি সাদ রেলওয়ে স্টেশনে নতুনভাবে সংস্কার করা ক্যানপির পতন ঘটায় ১৬ জনের মৃত্যু। এই দুর্ঘটনা সের্বিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো প্রতিবাদের সূচনা করে। এই দুর্ঘটনাকে ভ্রষ্টাচারের প্রতীক হিসেবে দেখে, প্রতিবাদকারীরা স্বচ্ছতা ও আগামী নির্বাচনের দাবি তোলেন। এই সপ্তাহে ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন অংশে, বিশেষত ভুচিচের শক্তিশালী অঞ্চলগুলোতে রাস্তায় নেমেছিলেন।
ভুচিচ, যিনি আগস্টে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন, এই নির্বাচনকে "স্ন্যাপ নির্বাচন" ঘোষণা করেন। তিনি ছাত্র আন্দোলনকে "বিদেশী অর্থায়িত অভ্যুত্থান" বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আমরা বেরিয়ে যাও এবং তাদেরকে পরাজিত করি! তাদেরকে সফলভাবে পরাজিত করি!"
সের্বিয়ায় নির্ভরযোগ্য স্বাধীন মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডুসান ভুচিচেভিক এএফপি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, তিনি আশা করেন ছাত্ররা ৪০ শতাংশেরও বেশি ভোট পাবে, যা ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা SNS-এর কোনো বিরোধী তালিকার চেয়ে বেশি। এএফপি সংবাদ সংস্থার মতে, পোলিংয়ে দেখা গেছে দুই পক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা, যা নির্বাচনের পরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ভয় দেখাচ্ছে।
শুক্রবার, নির্বাচন দিবসের আগে সহিংসতা, দাঙ্গা ও আক্রমণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও, ২৪টি সের্বীয় নাগরিক সমাজের সংগঠন এই সপ্তাহে সতর্কতা জানিয়ে বলেছে, "নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের" জন্য প্রয়োজনীয় অবস্থা পূরণ হয়নি।
"ছাত্ররা জিতছে!"
"আমার জীবনে প্রথমবারের মতো আমি বিশ্বাস করি যে সম্ভব। যুবকরা আমাকে একটি ‘নরমল কান্ট্রি’ (স্বাভাবিক দেশ) হওয়ার আশা দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বেলগ্রেড, স্লাভিয়া স্কয়ার, সের্বিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেক্সান্ডার ভুচিচ, মারিয়া নেডেলজকোভিচ রাদিক, জুগোস্লাভ গাসিক, ডুসান ভুচিচেভিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ জন প্রার্থী, ১৬ জন মৃত্যু, ৪০ শতাংশ ভোটের সম্ভাবনা, ১৪ বছর শাসন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!