📌 স্পেনের রাজা ফেলিপে ভি ও রানী লেতিজিয়া ১৩ অক্টোবর সেব্তা ও ১৪ অক্টোবর মেলিল্লা সফর করবেন। এই সফরটি সেপ্টেম্বর মাসে সেব্তা সীমান্তে অভিবাসী সংকটের পর ঘটে। স্পেন সেব্তা ও মেলিল্লাকে নিজের অঞ্চল হিসেবে দাবি করে, আর মরোক্কো এই দুটি শহরকে নিজের অংশ বলে দাবি করছে। সেব্তা শহরটির নাম স্পেনে 'সেউতা' আর আরবিতে 'সেব্তা' নামে পরিচিত
স্পেনের রাজা ফেলিপে ভি ও রানী লেতিজিয়া ১৩ অক্টোবর সেব্তা শহর সফর করবেন, যা তার রাজত্বের শুরু থেকে প্রথমবারের মতো। এই সফরটি ঘটে সেপ্টেম্বর মাসে সেব্তা সীমান্তে ৭২,০০০ অভিবাসীর আকস্মিক প্রবেশের পর। মরোক্কো ও স্পেনের মধ্যে এই শহর ও মেলিল্লা নিয়ে দীর্ঘদিনের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের বিতর্ক এখনও অবসান পায়নি। স্পেন সেব্তা ও মেলিল্লাকে নিজের অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে, আর মরোক্কো এই দুটি শহরকে নিজের অংশ বলে দাবি করে। শহরটির নাম স্পেনে 'সেউতা' নামে পরিচিত, আর আরবিতে 'সেব্তা' বা লাতিন লিপিতে 'সেব্তা' নামে পরিচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্পেনের রাজা ফেলিপে ভি ও রানী লেতিজিয়া ১৩ অক্টোবর সেব্তা সফর করবেন, যা তার রাজত্বের শুরু থেকে প্রথমবারের মতো।
- 📌 সেপ্টেম্বর মাসে সেব্তা সীমান্তে ৭২,০০০ অভিবাসী আকস্মিকভাবে প্রবেশ করে সংকট সৃষ্টি করে।
- 📌 সেব্তা শহরটির নাম স্পেনে 'সেউতা' আর আরবিতে 'সেব্তা' নামে পরিচিত।
- 📌 স্পেন সেব্তা ও মেলিল্লাকে নিজের অঞ্চল হিসেবে দাবি করে, আর মরোক্কো এই শহর দুটিকে নিজের অংশ বলে দাবি করে।
- 📌 সেব্তা শহরটি ৭০৯ সাল থেকে ১৪১৫ সাল পর্যন্ত মুসলিম শাসনের অধীনে ছিল।
- 📌 ১৪১৫ সালে পর্তুগিজ রাজা জন প্রথমের নেতৃত্বে পর্তুগিজ বাহিনী সেব্তা দখল করে।
- 📌 ১৬৬৮ সালের লিসবন চুক্তি পর্তুগালের স্বাধীনতা স্বীকৃতির পর সেব্তা স্পেনের অধীনে থাকে।
- 📌 মরোক্কো সেব্তা ও মেলিল্লাকে নিজের অংশ বলে দাবি করে, আর স্পেন সার্বভৌমত্বের দাবি ত্যাগ করে না।
📰 বিস্তারিত
সেব্তা শহরটি উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত এবং এর নামের দুটি রূপ রয়েছে: স্পেনে 'সেউতা' আর আরবিতে 'সেব্তা'। এই শহরটি স্পেনের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকলেও মরোক্কো এই শহরটিকে নিজের অংশ বলে দাবি করে। সেব্তা শহরটির নামের উৎপত্তি প্রাচীনকালের। আরবিতে শহরটির নাম ছিল 'সেব্তা'। স্পেনের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সেব্তার ইতিহাসের সূত্র ধরে নেয় যে, সেব্তা ছিল ইদ্রিসি, উমাইয়া, তাইফা, আলমোরাবিদ, আলমোহাদ ও মারিনিদ রাজবংশের অধীনে।
সেব্তা শহরটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও রাজবংশীয় ব্যবস্থার অধীনে ছিল। ইদ্রিসি রাজবংশের অধীনে শহরটি বানু ইসমের অধীনে ছিল। ৯৩১ সালে উমাইয়া খলিফা আবদুর রহমান তৃতীয় সেব্তা দখল করে নেন, যা আল-আন্দালুসের রাজনৈতিক স্ফেরায় নিয়ে আসে। ১১শ শতাব্দীতে সেব্তা মালাগার তাইফার সাথে যুক্ত হয়। পরে আলমোরাবিদ ও আলমোহাদের অধীনে ছিল। ১৪শ শতাব্দীর শুরুতে শহরটি মারিনিদ রাজবংশের অধীনে আসে।
১৪১৫ সালের ২১ আগস্ট পর্তুগিজ বাহিনী সেব্তা দখল করে। এই দখলটি সেব্তার ৭০৯ সাল থেকে ১৪১৫ সাল পর্যন্ত মুসলিম শাসনের অবসান ঘটায়। পর্তুগিজরা সেব্তা অধীনে রাখে প্রায় দুশো বছর। পর্তুগাল ও স্পেন ১৫৮০ থেকে ১৬৪০ সাল পর্যন্ত একই রাজবংশের অধীনে ছিল। ১৬৪০ সালে পর্তুগাল স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু সেব্তা স্পেনের অধীনে থাকে। ১৬৬৮ সালের লিসবন চুক্তি পর্তুগালের স্বাধীনতা স্বীকৃতির পর সেব্তা স্পেনের অধীনে থাকে।
মরোক্কোর দাবি সেব্তার ইতিহাস ও ভূগোলের উপর ভিত্তি করে। সেব্তা উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত এবং মরোক্কোর ভূমি দ্বারা ঘিরে রয়েছে। মরোক্কো ১৯৫৬ সাল থেকে সেব্তা ও মেলিল্লা দখলকৃত অঞ্চল বলে দাবি করে। স্পেনের আইন অনুযায়ী, সেব্তা একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। এর স্বায়ত্তশাসন আইনে সেব্তাকে স্পেনের জাতীয় অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং শহরটিকে নিজস্ব স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। বিতর্কের মূল বিষয়টি হল সার্বভৌমত্ব। স্পেন সেব্তার সার্বভৌমত্বের দাবি ত্যাগ করে না, আর মরোক্কো সেব্তাকে নিজের অংশ বলে দাবি করে।
"সেব্তা ও মেলিল্লা নিয়ে মরোক্কো ও স্পেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক অবসান পায়নি। স্পেন সেব্তাকে নিজের অংশ বলে দাবি করে, আর মরোক্কো সার্বভৌমত্বের দাবি ত্যাগ করে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেব্তা ও মেলিল্লা (উত্তর আফ্রিকার উপকূল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্পেনের রাজা ফেলিপে ভি, রানী লেতিজিয়া, পর্তুগিজ রাজা জন প্রথম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২,০০০ (অভিবাসী), ৭০৯ (মুসলিম শাসনের শুরু), ১৪১৫ (পর্তুগিজ দখল), ১৬৬৮ (লিসবন চুক্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!