📌 ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা বেষ্টনিতে দফায় দফায় রাজপ্রাসাদ থেকে রাজপ্রাসাদ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রিয়াদের বিমানবন্দরে গত দশকের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০-এর বেশি আহত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতি বিরোধী বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (৪১) কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনিতে দফায় দফায় রাজপ্রাসাদ থেকে রাজপ্রাসাদ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী হামলা সৌদি আরবের ইতিহাসে দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হুতি হামলার ভয়াবহতা**: রিয়াদের বিমানবন্দরে গত দশকের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০-এর বেশি আহত হন।
- 📌 **সৌদি যুবরাজের নিরাপত্তা বেষ্টনী**: মোহাম্মদ বিন সালমানকে (৪১) বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন রাজপ্রাসাদে দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
- 📌 **মার্কিন অংশগ্রহণের সম্ভাবনা**: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হুতি বিরোধী বিমান হামলায় সরাসরি অংশ নিতে পারে।
- 📌 **বিমানবন্দর বন্ধ**: গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ বিমানবন্দরে চারবার হামলা হলে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
- 📌 **ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে**: সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে।
- 📌 **সামরিক সহায়তা চাওয়া**: ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসর থেকে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
- 📌 **ইরানের উদ্বেগ**: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপের উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (৪১) গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি সুদক্ষ নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে তাঁকে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই তীব্র হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হুতি বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় তাঁদের হামলা অব্যাহত থাকবে। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহান্তের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই এ বিমানবন্দরটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’-এর তথ্য অনুযায়ী, এ অচলাবস্থার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে।
সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনা করে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া সমপর্যায়ের কঠোর হবে। তবে গোপনে স্বীকার করা হয়েছে যে, একের পর এক হামলা ঠেকাতে গিয়ে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর ২০২২ সালে সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হলে সেই চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যায়। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে হুতিদের প্রতিনিধিদের নিয়ে তেহরানগামী ইরানের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের চেষ্টার সময় সৌদি বাহিনী গুলি চালিয়েছে। হুতিরা এ অভিযোগ তোলার পরই নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। ইরান-সমর্থিত হুতিরা এ অঞ্চলে তেহরানের অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি।
"আরব উপদ্বীপের এ উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে চিন্তিত।"
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই লড়াইয়ের ফলে শুধু ‘ইসরায়েল সরকারই লাভবান হবে’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রিয়াদ (সৌদি আরব), কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ বিন সালমান (সৌদি যুবরাজ), আবদুল আজিজ বিন সালমান (সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), ইসমাইল বাঘাই (ইরানের পররাষ্ট্র মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন নিহত, ৩০০ জনের বেশি আহত, ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!