📌 ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান শ্রমিক আনোজান শিবারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার পরিবারের সাথে সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ নেই এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো সময়সূচি প্রকাশ করেনি। শ্রীলঙ্কা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য
সৌদি আরবে ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিবারাসাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময়সূচি ঘোষণা না করে রাখা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনোজানের পরিবারের সাথে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে যোগাযোগ নেই। তার জীবন রক্ষার জন্য সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। শ্রীলঙ্কায় এই ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন সংগঠন আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবে ফেসবুকে মহানবী (সা.) অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে ২৪ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান শ্রমিক আনোজান শিবারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- 📌 আনোজানের পরিবারের সাথে সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ নেই; তার জীবন রক্ষার জন্য ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
- 📌 শ্রীলঙ্কার সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আনোজানের মামলায় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করছে।
- 📌 আনোজানের মামলায় প্রথমে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা দেওয়া হয়েছিল, পরে সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করা হয়।
- 📌 সৌদি আরবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে।
- 📌 শ্রীলঙ্কায় ১ কোটিরও বেশি বিদেশি শ্রমিক রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আইনি প্রতিনিধিত্বের অভাবের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ে।
📰 বিস্তারিত
২০২৬ সালের জুনের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার পর এক মুসলিম তরুণ কুকুরকে লাথি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিতর্কের এক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরে তিনি মন্তব্যটি মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, কিন্তু স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুলাই মাসে আনোজানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করা হয়।
আনোজানের মামলায় প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। কিন্তু তার সাজা কমানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউশন শরিয়াহ আইনে বিচার চেয়ে আপিল করে এবং আপিল আদালত তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানের জন্য তারা সব ধরনের সহায়তা নিচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সাথে দেখা করে এবং প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন যে, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে আনোজানের জন্য সাধারণ ক্ষমা আদায়ে।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের সাধারণত কারাগারে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি আরবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে কঠোর সাজা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ২০২৩ সালে সৌদি নাগরিক মোহাম্মদ আল-গামদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, পরে সাজা বাতিল করে তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
"আনোজানের পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ হয়েছিল। তার ভাই জানান, এরপর থেকে তারা তার কোনো ফোন পাননি। বিষয়টি তারা দূতাবাসকে জানিয়েছেন এবং তার অবস্থার বিষয়ে তথ্য চেয়েছেন। তবে এখনো কোনো উত্তর পাননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (আল-আহসা), শ্রীলঙ্কা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনোজান শিবারাসা (২৪), রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী (মা), হামসিদান শিবারাসা (ভাই), বিজিতা হেরাথ (শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী), উপুল কুমারাপ্পেরুমা (প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ বছর, ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২১ সেপ্টেম্বর, ২৮ সেপ্টেম্বর, ৩০ বছর, ১ কোটি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!