📌 রাশিয়ার ৫০ বছরের পুরনো নিউক্লিয়ার রেক্টরসমূহের দীর্ঘমেয়াদী দূরত্বকরণের খরচ ২১ বিলিয়ন ইউরো, কিন্তু রোসাটমের বর্তমান লাভের চেয়ে বেশি দাবি করবে। লিথুয়ানিয়ার ইগনালিনা নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের দূরত্বকরণে ৩.৩ বিলিয়ন ইউরোর খরচে মাত্র ৪৯% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী নিউক্লিয়ার প্রকল্পে জড়িত থাকলেও নিজের পুরনো রেক্টরসমূহের দূরত্বকরণে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে।
রাশিয়ার ৫০ বছরের পুরনো নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টসমূহের দীর্ঘমেয়াদী দূরত্বকরণের বিষয়টি বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করছে না, যদিও এই দেশের নিজস্ব নিউক্লিয়ার বিপদগুলি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া বিশ্বব্যাপী নিউক্লিয়ার প্রকল্পে জড়িত থাকলেও, নিজের পুরনো রেক্টরসমূহের দূরত্বকরণের জন্য অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বব্যাপী নিউক্লিয়ার প্রকল্পের কথা আলোচনা করলেও, এই প্রকল্পগুলোর দীর্ঘমেয়াদী দূরত্বকরণের জন্য অর্থের অভাবে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়ার ৩৫টি রেক্টর দূরত্বকরণের জন্য ২১ বিলিয়ন ইউরোর খরচ দরকার, কিন্তু রোসএনার্গোঅ্যাটমের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এই খরচ মেটাতে অক্ষম
- 📌 লিথুয়ানিয়ার ইগনালিনা নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের দূরত্বকরণে ৩.৩ বিলিয়ন ইউরোর খরচে মাত্র ৪৯% কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০৪৯ সাল পর্যন্ত চলবে
- 📌 রাশিয়ার ৭৭৪,০০০ ঘনমিটার পুরনো রেডিওঅ্যাক্টিভ ওয়েস্টের পাশাপাশি ৩৬টি রেক্টর দূরত্বকরণে আরো ৮০০,০০০ ঘনমিটার নতুন ওয়েস্ট তৈরি হবে
- 📌 রাশিয়া বর্তমানে দূরত্বকরণের কাজকে দেরি করে "সুরক্ষিত" স্টোরেজে রাখছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে
- 📌 রাশিয়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করলেও, নিজের পুরনো রেক্টরসমূহের দূরত্বকরণে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিউক্লিয়ার শক্তিকে "বৈকল্পিক" এবং "বায়ুমণ্ডলীয় দূষণমুক্ত" হিসেবে প্রচার করলেও, নিজের দেশের পুরনো নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টসমূহের দূরত্বকরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। সোভিয়েত যুগে নির্মিত এই প্ল্যান্টসমূহের অনেকগুলো ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। লিথুয়ানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের শর্ত হিসেবে সোভিয়েত যুগের ইগনালিনা নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের দুটি রেক্টর বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। প্রথম রেক্টর ২০০৪ সালে এবং দ্বিতীয়টি ২০০৯ সালে বন্ধ করা হলেও, দূরত্বকরণের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ২০২০ সাল পর্যন্ত এই কাজের খরচ ৩.৩ বিলিয়ন ইউরো (৩.৭ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে, কিন্তু মাত্র ৪৯% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০৩৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু এখন তা ২০৪৯ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার নিজস্ব রোসএনার্গোঅ্যাটম সংস্থা ৩৫টি রেক্টর দূরত্বকরণের পরিকল্পনা করেছে, কিন্তু তাদের নিজস্ব অনুমান অনুযায়ী এই কাজের জন্য ১৮.৭ বিলিয়ন ইউরোর অর্থের অভাব রয়েছে। মোট খরচের অনুমান ২১ বিলিয়ন ইউরো, যা রোসএনার্গোঅ্যাটমের বর্তমান লাভের চেয়ে বেশি। ইতিহাসে দেখা গেছে, দূরত্বকরণের খরচ প্রায়ই প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হয়। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির লুবমিন নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের দূরত্বকরণের প্রাথমিক খরচ ১ বিলিয়ন ইউরো অনুমান করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ১০ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
রাশিয়া বর্তমানে দূরত্বকরণের কাজকে দেরি করে "সুরক্ষিত" স্টোরেজে রাখছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। বেলোনা ফাউন্ডেশন নামক পরিবেশগত সংগঠন রোসাটমের নিজস্ব অনুমানের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ২০৩৭ সালের মধ্যে রোসাটমের দূরত্বকরণ ও পুনরুদ্ধার কাজের দায়িত্ব তার নেট লাভের চেয়ে বেশি হবে। এছাড়াও, দূরত্বকরণের কাজ দেরি করলে রেডিওঅ্যাক্টিভ ওয়েস্টের ম্যানেজমেন্টে আরো বেশি ঝুঁকি তৈরি হবে।
রাশিয়ার ৭৭৪,০০০ ঘনমিটার পুরনো রেডিওঅ্যাক্টিভ ওয়েস্টের পাশাপাশি, ৩৬টি রেক্টর দূরত্বকরণে আরো ৮০০,০০০ ঘনমিটার নতুন ওয়েস্ট তৈরি হবে। রাশিয়া ইতিমধ্যে কেমেরোভো অঞ্চলে কয়লা খনির বর্জ্য থেকে পরিবেশ দূষণের উদাহরণ দেখিয়েছে, যেখানে বর্জ্য জ্বলতে থাকে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে দূষিত করে। যখন কোম্পানি ব্যাংকরুপ্টি হয়, তখন এই বর্জ্য ম্যানেজমেন্টের খরচ রাষ্ট্র এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর পড়ে। কিন্তু নিউক্লিয়ার ওয়েস্টকে তেমনভাবে ত্যাগ করা সম্ভব নয়। অর্থের অভাবের কারণে এই প্রকল্পগুলোর মেইনটেনেন্স, দূরত্বকরণ এবং শেষ পর্যন্ত দূরত্বকরণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হলে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
"sustainable"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাশিয়া, লিথুয়ানিয়া, জার্মানি, বাংলাদেশ, সোভিয়েত ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি), বেলোনা ফাউন্ডেশন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (পুরনো রেক্টর), ৩.৩ বিলিয়ন ইউরো (লিথুয়ানিয়ার খরচ), ২১ বিলিয়ন ইউরো (রাশিয়ার মোট খরচ), ৭৭৪,০০০ ঘনমিটার (পুরনো রেডিওঅ্যাক্টিভ ওয়েস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!