📌 রাশিয়ায় মানব পাচার চক্রের মাধ্যমে ৩০ বাংলাদেশিকে নির্মাণ চাকরির ভ্রান্ত প্রতিশ্রুতিতে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়, ড্রোন হামলায় ২০ জন নিহত। জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমানসহ দুজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে মানব পাচার চক্রের শিকার হয়ে ২০ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। চাকরির আশায় ৩০ জনকে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ড্রোন হামলায় ১৭ জন প্রথম দিনেই নিহত হয়, পরে আরও তিনজন মারা যায়। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নির্মাণ চাকরির ভ্রান্ত প্রতিশ্রুতিতে ১০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়, পরে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
- 📌 ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়, ড্রোন হামলায় ২০ জন নিহত হয়, প্রথম দিনেই ১৭ জন মারা যায়।
- 📌 জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 মানব পাচার চক্রের সঙ্গে রাশিয়ার ইগর ও কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের দুজনও জড়িত, তথ্য সংগ্রহ চলছে।
- 📌 জীবিত ১০ জনের মধ্যে দুজন আহত, একজন কোমর ভেঙে পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পে পৌঁছান। বাকি আটজন মধ্যে দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ৩০ বাংলাদেশিকে নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে কাজের কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তাদের যুদ্ধের মতো কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। যুদ্ধক্ষেত্রে শিকার হিসেবে পাঠানো হতো, ড্রোন হামলায় প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করা হতো।’
এসআরবি জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে তিনটি ভাগে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জন মারা যায়। পরে আরও তিনজন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ২০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাঁর নাম রাজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন আঘাতে কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান। বাকি আটজনের মধ্যে দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।
মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবি জানায়, রাশিয়ার ইগর ও কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের দুজনও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান চলছে। চক্রের আরেক সদস্য মোস্তাফিজুরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
"যাদের বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয়েছে, আসলে তারা কেউ যুদ্ধের মতো যোগ্য নয়। যুদ্ধের জন্য তাদের শারীরিক, প্রশিক্ষণ বা কৌশল—কোনো ধরনেরই অনুশীলন ছিল না। তাহলে মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণে তাদের কেন পাঠানো হলো? আমরা যেটা বুঝতে পেরেছি, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তকরণের জন্য, একধরনের শিকার হিসেবে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।" — মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়ন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাশিয়া (যুদ্ধক্ষেত্র), মস্কো (হাসপাতাল), বাংলাদেশ (কারওয়ান বাজার, সংবাদ সম্মেলন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক), মিজানুর রহমান (৫৫), আবু তাহের (লেন্টু), রাজন (জীবিত আহত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন (বাংলাদেশি), ২০ জন (নিহত), ১০ লাখ টাকা (প্রত্যেকের), ২১ দিন (প্রশিক্ষণ), ১৭ জন (প্রথম দিনে নিহত), ৫৫ বছর (মিজানুর রহমান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!