📌 কুমিল্লার চান্দিনা থেকে রাশিয়ায় চাকরি খোঁজার জন্য যান ২৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাগর। দালালের প্রলোভনে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। চার মাস পর বন্ধু বার্তা পাঠান: ‘সাগর আর নেই’। পরিবার এখনও মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারছে না
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠে সৈনিক হিসেবে যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে মারা যান কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ২৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাগর। পরিবারের সঙ্গে চার মাস ধরে যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর শনিবার এক বন্ধু মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানান: ‘সাগর আর নেই’। তবে মৃত্যুর বিস্তারিত জানানোর প্রতিশ্রুতি পেলেও পরিবার এখনও কোনো সত্যিকারের তথ্য পায়নি। সাগরের পরিবার এখনও বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করতে চান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৪ বছর বয়সী সাগর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে মারা যান। পরিবারের সঙ্গে চার মাস ধরে যোগাযোগ ছিল না।
- 📌 বন্ধু রাজন শনিবার মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানান: ‘সাগর আর নেই’। তবে মৃত্যুর বিস্তারিত জানানোর প্রতিশ্রুতি পেলেও পরিবার এখনও কোনো তথ্য পায়নি।
- 📌 দালালের প্রলোভন পেয়ে সাগর রাশিয়ার বেকারির চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মাসে ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি।
- 📌 সাগরের বাবা মো. কবির হোসেন বলেন, ‘ছেলের লাশ অন্তত একবার দেখতে চাই’। তিনি বলেন, ‘আমি এইটুকু জানতে চাই, সে কি আসলেই মারা গেছে?’
- 📌 সাগর প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারেননি। রিকশা-ভ্যান চালিয়ে পরিবারের আর্থিক সহায়তা করতেন।
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাগর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি রাশিয়ায় চাকরি খোঁজার জন্য যান। সেখানে একটি বেকারিতে চাকরি পান এবং মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন। কিন্তু দালালের প্রলোভনে পড়ে তিনি রাশিয়ার বেকারির চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার কথা তার চাচা আবদুল আওয়ালকে জানান, তখন তিনি তাকে বারণ করেছিলেন। কারণ, সাগর লেখাপড়াই জানে না এবং বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করার উপযুক্ত নয়।
সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি করছিলেন, তখন এক বাংলাদেশি দালাল তাঁকে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। সেই প্রলোভনে পড়ে সাগর চলতি বছরের মে মাসে বেকারির চাকরি ছেড়ে যুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাগর তার চাচা আবদুল আওয়ালকে তিন লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সাগরের পরিবার জানায়, সাগর ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সাগরের বন্ধু রাজন গত শনিবার সাগরের বোনের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানান, ‘সাগর আর বেঁচে নেই’। তবে তিনি মৃত্যুর বিস্তারিত জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে আর কোনো তথ্য পাননি।
সাগরের বাবা মো. কবির হোসেন বলেন, ‘প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলেটার সঙ্গে কথাও বলতে পারিনি। এখন শুনি, আমার ছেলে আর নেই। আমি এইটুকু জানতে চাই, সে কি আসলেই মারা গেছে? মারা গেলে ছেলেটার লাশটা অন্তত একবার দেখতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাগর যখন রাশিয়ায় যান, তখন আমি অনেক ধারদেনা করতে হয়েছিল। ছেলের বিদেশে যাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে—এমন আশাও ছিল আমার।’
"সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কথা আমাকে জানায়, তখন আমি তাকে বারণ করেছিলাম। কারণ, সাগর লেখাপড়াই জানে না, সে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে কীভাবে?"
— সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা, রাশিয়া, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ সাগর (২৪), মো. কবির হোসেন, দেলোয়ারা বেগম, আবদুল আওয়াল, রাজন (বন্ধু)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ বছর, ৭০ হাজার টাকা, ৩০ লাখ টাকা, ৩ লাখ টাকা, ৬ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!