📌 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতারিত ৩০ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন। তিনজন টাঙ্গাইলের দরিদ্র পরিবারের সন্তান — নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম — যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় নিহত হন। তাদের পরিবার ঋণ ও জমি বন্ধক রাখার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতারিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুতে নতুন করে সংকটে পড়েছে তাদের পরিবার। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়া তিনজন টাঙ্গাইলের দরিদ্র পরিবারের সন্তান — নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম — যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় নিহত হন। এদের মধ্যে নজরুল ইসলামের ভাতিজা মোহাম্মদ শিহাব জানান, চাচা সর্বশেষ ২৯ জুলাই কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের যুদ্ধে পাঠায় দিচ্ছে। আমার মাকে দেখে রাখিস, সন্তানদের দেখে রাখিস’। পরে পরিবার জানতে পারে, তিনজনকে যুদ্ধক্ষেত্রে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করে হত্যা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩০ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন** রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে, তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম তিনজন টাঙ্গাইলের দরিদ্র পরিবারের সন্তান।
- 📌 **প্রতারক চক্রের মাধ্যমে ৩ প্রতিষ্ঠান** (জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ) ১০ লাখ টাকা করে প্রত্যেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাশিয়ায় পাঠায়।
- 📌 **জমি বন্ধক ও ঋণের কারণে পরিবার আর্থিক সংকটে** — নজরুলের ভাই টাকার বিনিময়ে জমি বিক্রি করার কথা বললেও পারছেন না। পবিত্র চন্দ্রের পরিবার ঋণ শোধ করতে জমি বিক্রি করার চিন্তা করছে।
- 📌 **স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানায়**, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে বাংলাদেশিদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ড্রোন হামলায় নিহতদের অবস্থান ও দূরত্ব শনাক্ত করা যেত।
- 📌 **নজরুলের পরিবারে ৪০ বছর বয়সী** — তিনি দুবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের খোঁজ রাখতেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই সন্তান (সোয়া এক বছর ও ছয় মাস বয়সী) এখনো যৌথ পরিবারে থাকছেন।
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিনজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান — নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম — কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত হন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তিন প্রতিষ্ঠান (জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ) রাশিয়ায় পাঠায়। কিন্তু পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানায়, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে বাংলাদেশিদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ড্রোন হামলায় নিহতদের অবস্থান ও দূরত্ব শনাক্ত করা যেত। নজরুল ইসলামের ভাতিজা মোহাম্মদ শিহাব বলেন, চাচা সর্বশেষ ২৯ জুলাই কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের যুদ্ধে পাঠায় দিচ্ছে। আমার মাকে দেখে রাখিস, সন্তানদের দেখে রাখিস’। পরে পরিবার জানতে পারে, তিনজনকে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় নিহত করা হয়।
নজরুল ইসলামের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। তিনি জমি বন্ধক রেখে ৯ লাখ টাকা নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। বড় ভাইয়ের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তিনি একসময় ঢাকায় সবজির ব্যবসা করতেন, কিছুদিন রিকশাও চালিয়েছেন। এখন বাড়িতেই থাকছেন। যৌথ পরিবারের জমি বন্ধক থাকায় কিছু করতেও পারছেন না। টাকা ফেরত দিয়ে জমি উদ্ধার করার মতো অবস্থাও তাঁর নেই।
পবিত্র চন্দ্রের পরিবারও ঋণ ও পাওনাদারদের তাগাদায় কষ্টে জীবন যাপন করছে। তিনি কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির কিছু অর্থ আর ঋণ নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। বেঁচে যাওয়া সঙ্গীদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, যুদ্ধক্ষেত্রে পবিত্রর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুশোকের সঙ্গে এখন পরিবারটিকে তাড়া করছে পাওনাদারদের অব্যাহত তাগাদা। পরিবারটি এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে ভাত খেতে বসলে ঋণদাতারা টাকার জন্য পেছনে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন।
"আমাদের যুদ্ধে পাঠায় দিচ্ছে। আমার মাকে দেখে রাখিস, সন্তানদের দেখে রাখিস।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা, ঢাকা, রাশিয়া, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র, আমিনুর ইসলাম, মোহাম্মদ শিহাব, নজরুলের স্ত্রী ও সন্তান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন (প্রতারিত), ২০ জন (মারা গেছেন), ৩ জন (টাঙ্গাইলের), ২৯ জুলাই (সর্বশেষ কথা), ৯ লাখ টাকা (জমি বন্ধক), ১০ লাখ টাকা (প্রত্যেকের), ১৪ অক্টোবর (সংবাদ সম্মেলন), ৭ মে (প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশিদের পাঠায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!