📌 রাশিয়া ইউক্রেনে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত করেছে। ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো, আবাসিক ভবন ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, এটি ২০২২ সালের যুদ্ধ শুরু থেকে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি
রাশিয়া ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে রাতভর অব্যাহত আক্রমণ চালিয়েছে। এ হামলায় শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন, ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অজ্ঞাতসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬১টি লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়া ইউক্রেনে একযোগে ১৩০টি ড্রোন, ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অজ্ঞাতসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার ফলে ২০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে
- 📌 হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল কিয়েভ, পোলতাভা, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও খারকিভ — এসব অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো, আবাসিক ভবন ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 প্রিলুকি শহরের একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যেখানে ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন শিশু
- 📌 ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ‘ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে’ হামলা চালিয়েছে
- 📌 রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, কিয়েভের ফায়ার পয়েন্ট কোম্পানির স্থাপনা, ওদেসার বন্দর ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর জাহাজও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল
- 📌 ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস বলেন, ‘রাতভর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলতে থাকে, মানুষকে সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হয়’
- 📌 ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার পার্ম, সামারা ও আস্ত্রাখান অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া ইউক্রেনে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলা চালিয়ে রাতভর অব্যাহত আক্রমণ চালিয়েছে। এ হামলায় শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন, ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অজ্ঞাতসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬১টি লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, মধ্যাঞ্চলের পোলতাভা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ।
হামলায় প্রিলুকি শহরের একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যেখানে জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো জানান, বিমান হামলার কারণে সৃষ্ট আগুনে ঘনবসতিপূর্ণ দারনিতস্কি এলাকায় দুজন নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি অবকাঠামো ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রুশরা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে হামলা চালাতে চেয়েছিল।’
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হয়েছে। এতে স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য উচ্চনির্ভুল অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কিয়েভের ফায়ার পয়েন্ট কোম্পানির স্থাপনা, যেখানে ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। ওদেসা অঞ্চলের বন্দর ও জাহাজ মেরামতের অবকাঠামোও আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
"আমাদের জ্বালানি অবকাঠামো ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রুশরা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে হামলা চালাতে চেয়েছিল।"
— প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক সাংসদীয় কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস টেলিগ্রামে বলেন, ‘ইউক্রেন আবারও সারা রাত রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আরেকটি নির্ঘুম রাত, সন্ত্রাসের আরেকটি ঘটনা। এরপরও সবকিছুকে উপেক্ষা করে মানুষকে দিনের কাজের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।’
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার পার্ম, সামারা ও আস্ত্রাখান অঞ্চলের দুটি তেল স্থাপনা ও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরে পাল্টা হামলাও হয়েছে। তিনি এসব হামলাকে মস্কোর হামলার ‘ন্যায্য’ জবাব বলে অভিহিত করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউক্রেন (কিয়েভ, পোলতাভা, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ, প্রিলুকি, ওদেসা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, দিমিত্রো লুবিনেৎস, ভিটালি ক্লিৎসকো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ জন নিহত, ১৩০টি ড্রোন, ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১৬১টি ভূপাতিত লক্ষ্যবস্তু, ১৪ জন নিহত (প্রিলুকি), ৫০ জন আহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!