📌 ফাঁস হওয়া রুশ নথি ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে রাশিয়া ইরানকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপনে সহায়তা করছে। এই কর্মসূচির নাম 'সি৪৩০ এল', যার মূল লক্ষ্য ইরানকে র্যামজেট প্রযুক্তি সরবরাহ করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে
ফাঁস হওয়া রুশ সামরিক নথি ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে যে রাশিয়া ইরানকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপনে সহায়তা করছে। মস্কো থেকে তেহরানে সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'সি৪৩০ এল'। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে র্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা, যা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ দ্রুতগতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরনএক্সপোর্ট ও এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়া যৌথভাবে প্রকল্প 'সি৪৩০ এল' পরিচালনা করছে।
- 📌 ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি জাহাজবিধ্বংসী ও স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানো হবে।
- 📌 ইরান ইতিমধ্যে র্যামজেট প্রযুক্তির প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, তবে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
- 📌 মার্কিন থিংক ট্যাংক জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন–প্রলিফারেশন স্টাডিজ-এর বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
📰 বিস্তারিত
২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই গোপন কর্মসূচি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও অব্যাহত রয়েছে। ফাঁস হওয়া রুশ চিঠিপত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি এবং সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রকল্প 'সি৪৩০ এল'-এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে এমন একটি প্রযুক্তি সরবরাহ করা, যা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ দ্রুতগতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করবে।
সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব হলো, এগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির পাশাপাশি অনেক কম উচ্চতায় উড়তে পারে। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য কম সময় পায়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের উন্নত স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ইরানের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
প্যারিসের সায়েন্স পো ইউনিভার্সিটি-এর অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেউস্কি বলেন, গোপন র্যামজেট কর্মসূচি দেখিয়ে দেয় যে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এই অঞ্চলে রাশিয়া আগের মতো 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমারেখা নিয়ে ততটা চিন্তিত নয়।
"এই প্রযুক্তি ইরানকে এমন এক নতুন ধরনের কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্কো, তেহরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিম ল্যামসন (মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক), নিকোল গ্রাজেউস্কি (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩০ (প্রকল্পের কোডনেম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!