📌 রাশিয়া-অধিকৃত ওলেশকি শহরে বসবাসরত ইউক্রেনের বাসিন্দারা চার বছরের অধিক সময় ধরে খাদ্য সংকট, ড্রোন হামলা ও মাইনের কারণে জীবনযাপন করছেন। ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা ভেরা গুলিয়েভা তার ৬৩ বছর বয়সী স্বামীকে হারান, যিনি ড্রোন হামলায় আহত হয়ে মাইনের কারণে রোগানুসারিতে পৌঁছাতে পারেননি। ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা এই অবস্থাকে মানবতাবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করেছেন
রাশিয়া-অধিকৃত ওলেশকি শহরে বসবাসরত ইউক্রেনের বাসিন্দারা চার বছরের অধিক সময় ধরে খাদ্য সংকট, ড্রোন হামলা ও মাইনের কারণে জীবনযাপন করছেন। ৫ অক্টোবর, ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা ভেরা গুলিয়েভা তার ৪১তম বিবাহোৎসবের দিনে স্বামী সেরহিয় গুলিয়েভের মৃত্যুর কথা স্মরণ করছেন। মার্চ মাসে রাশিয়ান ড্রোন একটি রুটি লাইনে আঘাত হানে, যার ফলে বেশ কয়েকজন নিহত ও ৬৩ বছর বয়সী সেরহিয় গুলিয়েভ আহত হন। এই শহরটি খেরসন অঞ্চলে অবস্থিত এবং বর্তমানে ২০০০ জনেরও কম বাসিন্দা রয়েছেন। তারা শেষ দুই বছর থেকে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা স্বাস্থ্যসেবা ছাড়া জীবন যাপন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪১ বছর বিবাহিত জীবনের শেষ দিনে** ভেরা গুলিয়েভা স্বামী সেরহিয় গুলিয়েভের মৃত্যুর কথা স্মরণ করছেন, যিনি ড্রোন হামলায় আহত হয়ে মাইনের কারণে রোগানুসারিতে পৌঁছাতে পারেননি।
- 📌 **ওলেশকি শহরে বর্তমানে ২০০০ জনেরও কম বাসিন্দা** রয়েছেন, যারা চার বছরের অধিক সময় ধরে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও স্বাস্থ্যসেবা ছাড়া জীবন যাপন করছেন।
- 📌 **মার্চ মাসে ড্রোন হামলায়** রুটি লাইনে আঘাত হানে, যার ফলে সেরহিয় গুলিয়েভ আহত হন। পরে মাইনের কারণে রোগানুসারিতে পৌঁছাতে না পারায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 **খাদ্য সংকটের কারণে** বাসিন্দারা সংরক্ষিত খাদ্য খেয়ে ফেলেছেন, অনেকেই বেঁচে থাকার জন্য কৃষি বা বর্জিত বাড়ি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করছেন।
- 📌 **রাশিয়ান ড্রোন ও মাইন** শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়া বাসিন্দাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে। শুধু শুক্রবারেই চারজন নিহত ও দুজন আহত হন।
- 📌 **ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার** ডমিত্রি লুবিনেটস টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাশিয়া দৈনিক বাসিন্দাদের জন্য দুটি বিকল্প দিচ্ছে: "স্থানেই কষ্টে মারা যাওয়া বা বেরিয়ে পড়া এবং মাইনে ফাঁসা হয়ে যাওয়া"।
- 📌 **ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস** বলেছেন, "কেউ যদি বলে, 'এই অঞ্চলগুলো ত্যাগ করো', তাহলে তা সহজ বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটা সেই মানুষদের সম্পর্কে, যারা এই অঞ্চলে বসবাস করছে এবং তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করতে হবে।"
- 📌 **রাশিয়ার সরকারি মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ** দাবি করেছেন, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহের সমস্যা রয়েছে কারণ কিয়েভ সরকার এই সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
📰 বিস্তারিত
ভেরা গুলিয়েভা ও তার স্বামী সেরহিয় গুলিয়েভ ১৯৮৫ সালে বন্ধুদের বিবাহে পরিচিত হন। তারা একটি ছোট বাড়িতে বসবাস করতেন, যেখানে একটি গাছপালা, শাকসবজি চাষের জমি, পাঁচটি মুরগি, একটি পানির কূপ এবং একটি জেনারেটর ছিল। জেনারেটরটি অতিরিক্ত মূল্যে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে কিনা গ্যাসের উপর নির্ভরশীল ছিল। গুলিয়েভা বলেন, "আমি প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরোনি। স্বামী কখনো কখনো রুটি কিনতে বের হতেন।" ড্রোন হামলায় সেরহিয় গুলিয়েভের মস্তিষ্কে গভীর আঘাত হয়। ভেরা তাকে ৮০ কিলোমিটার দূরে স্কাদোভস্ক শহরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স মাইনে ফাঁসা হয়ে যায়। পরে দ্বিতীয় চেষ্টায় সেরহিয় হাসপাতালে পৌঁছান, কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ভেরা তার দেহাবশেষ সংগ্রহ করে কবর দেন এবং তার রाख নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিম ইউক্রেনে তার পুত্রবধূ ও দুই নাতিনীসহ বসবাস করছেন। তার পুত্র রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।
ওলেশকি শহরে খাদ্য সংকটের কারণে বাসিন্দারা সংরক্ষিত খাদ্য খেয়ে ফেলেছেন। অনেকেই কৃষি বা বর্জিত বাড়ি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করছেন। কিছু বাসিন্দা প্রতিবেশী রাদেনস্ক গ্রামে (২০ কিলোমিটার দূরে) খাদ্য কিনতে যান, কিন্তু অনেকেই ফিরে আসেন না। একটি বাসিন্দা যিনি শহর ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু কিছু বাসিন্দাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন, তিনি বলেছেন, রাশিয়ান ড্রোন বা মাইনের কারণে অনেকেই নিহত হয়েছে। মৃতদেহগুলি খোলা রেখে ফেলা হয়, যেখানে বন্য কুকুর তাদের খেয়ে ফেলে। শুক্রবার একদিনে চারজন নিহত হয়। রাদেনস্কের দিকে যাওয়ার সময় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন, যাদের একটি হাঁড়ি ও একটি সাইকেলে নিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার ডমিত্রি লুবিনেটস টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাশিয়া প্রতিদিন বেসামরিক বাসিন্দাদের জন্য দুটি বিকল্প দিচ্ছে: "স্থানেই কষ্টে মারা যাওয়া বা বেরিয়ে পড়া এবং মাইনে ফাঁসা হয়ে যাওয়া।" ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস ২৮ সেপ্টেম্বর বলেছেন, "কেউ যদি বলে, 'এই অঞ্চলগুলো ত্যাগ করো', তাহলে তা সহজ বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটা সেই মানুষদের সম্পর্কে, যারা এই অঞ্চলে বসবাস করছে এবং তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করতে হবে।"
"আমি প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরোনি। স্বামী কখনো কখনো রুটি কিনতে বের হতেন।"
"লোকেরা সব সংরক্ষিত খাদ্য খেয়ে ফেলেছে। লোকেরা কষ্টে মারা যাচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওলেশকি শহর, খেরসন অঞ্চল, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভেরা গুলিয়েভা, ডমিত্রি লুবিনেটস, কাজা কালাস, দিমিত্রি পেস্কভ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ বছর (ভেরা গুলিয়েভা), ৬৩ বছর (সেরহিয় গুলিয়েভ), ২০০০ জনের কম বাসিন্দা, ৮০ কিলোমিটার (স্কাদোভস্ক পর্যন্ত দূরত্ব), ২০ কিলোমিটার (রাদেনস্ক গ্রাম পর্যন্ত দূরত্ব), ৪ জন নিহত (শুক্রবার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!