📌 রাশিয়ার খাবারভস্কে নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার একটি স্মারক জাপানের জাতীয় প্রতীক ক্রিস্যানথেমাম ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরে, যা টোকিওকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মারকটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যা রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে
রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে একটি বিতর্কিত স্মারক। খাবারভস্কে নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার এই স্মারকে জাপানের জাতীয় প্রতীক ক্রিস্যানথেমাম ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরে, যা টোকিওকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মারকটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যা রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০ ফুট উচ্চতার স্মারক রাশিয়ার খাবারভস্কে উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে সোভিয়েত সেনা জাপানের ক্রিস্যানথেমাম প্রতীক ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মারকটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, বলেছেন এটি ‘অগ্রহণযোগ্য’।
- 📌 রাশিয়া স্মারকটিকে ১৯৪৫ সালের সোভিয়েত বিজয়ের স্মৃতি হিসেবে বর্ণনা করেছে, কিন্তু জাপান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
- 📌 রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জাপানকে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জাপানের মস্কোবিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরও জটিল করেছে।
- 📌 ২০২৫ সালে জাপানের ৯ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করেছিল রাশিয়া থেকে।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খাবারভস্ক শহরে গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি বিতর্কিত স্মারক উন্মোচিত হয়েছে। এই ৫০ ফুট উচ্চতার স্মারকে সোভিয়েত সেনা একটি সীমান্তফলক ভেঙে ফেলছেন, যেখানে জাপানের জাতীয় প্রতীক ক্রিস্যানথেমাম ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই স্মারকটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জাপানের রাজপরিবারের প্রতীক ক্রিস্যানথেমাম ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরে কোনো স্মারক নির্মাণ করা যাবে না।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগিও এই স্মারকটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং মস্কোর প্রতি স্মারকটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জাপানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, রাশিয়া ‘জাপানি সামরিকতন্ত্র এবং তার বিরুদ্ধে অর্জিত বিজয়’ ভুলে যায়নি। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও জাপানকে এই বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্মারক রাশিয়া-জাপান সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও তুলে ধরছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের অধ্যাপক জেমস ব্রাউন মনে করেন, রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের বিরুদ্ধে ১৯৪৫ সালের বিজয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও সম্পর্কিত হতে পারে। আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছিলেন, যা জাপান ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ হিসেবে দাবি করে। পুতিনের সফরের প্রতিবাদও করেছিল জাপান।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জাপানের মস্কোবিরোধী নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থান টোকিওকে ইউক্রেনের প্রতি আরও শক্তিশালী সমর্থন দিতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে জ্বালানি নির্ভরতার কারণে জাপানের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে জাপানের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৯ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে।
"দেশটির রাজপরিবারের প্রতীক এবং জাপানের বহুল পরিচিত জাতীয় প্রতীক ক্রিস্যানথেমাম ক্রেস্ট ধ্বংসের দৃশ্য তুলে ধরে কোনো স্মারক নির্মাণ ‘অগ্রহণযোগ্য’।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাবারভস্ক (রাশিয়া), টোকিও (জাপান), লন্ডন (ইংল্যান্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সানায়ে তাকাইচি (জাপানের প্রধানমন্ত্রী), তোশিমিতসু মোতেগিও (জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট), জেমস ব্রাউন (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ ফুট (স্মারকের উচ্চতা), ১১ সেপ্টেম্বর (উত্তেজনার তারিখ), ৪ সেপ্টেম্বর (স্মারক উন্মোচনের তারিখ), ৯ শতাংশ (জাপানের রাশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!