📌 ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বলেছেন, রাশিয়া ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার পক্ষে ঐতিহাসিকভাবে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন ছিল ভারতের পক্ষে একটি মাইলফলক। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে পশ্চিমা সমালোচনার মুখে জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারতের জ্বালানি নীতির মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে রাশিয়া-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার পক্ষে সর্বদা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন ছিল ভারতের পক্ষে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) ভারতের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল, যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন করছিল।
- 📌 জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘মানুষ কখনো ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস ভুলে যায় না’ এবং এই ঐতিহাসিক সম্পর্কই বর্তমান রাশিয়া-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি।
- 📌 পশ্চিমা সমালোচনার মুখে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূল্যায়ন করে’।
- 📌 সামরিক ও পরমাণু সহযোগিতা ছাড়াও বাণিজ্য, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রেও রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।
- 📌 ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
- 📌 ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন, ‘আজকের যুগ যুদ্ধের যুগ নয়’।
📰 বিস্তারিত
মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বক্তৃতায় জয়শঙ্কর উল্লেখ করেছেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাকিস্তানের পক্ষে বঙ্গোপসাগরে পাঠানো হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সম্পর্কই বর্তমান রাশিয়া-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি’।
পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনার মুখে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূল্যায়ন করে’। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউরোপ ভারতের দৃষ্টিতে রাশিয়াকে দেখতে বাধ্য নয়, তেমনি ভারতের সিদ্ধান্তগুলোও রাশিয়ার সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারত শান্তির পথে অগ্রসর হতে চায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্যশস্য আমদানি, জ্বালানি রপ্তানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা ঠেকানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
"মানুষ কখনো ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস ভুলে যায় না। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক এবং ধারাবাহিকভাবেই ইতিবাচক থেকেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিউনিখ (জার্মানি), দিল্লি (ভারত), মস্কো (রাশিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস জয়শঙ্কর (ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৭১ (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!