📌 রাশিয়ার পেনজা শহরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক আলী হাসান সোহেল বলেছেন, প্রতারিত হয়ে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের। ৩০ জনের মধ্যে ২০ জন নিহত, ৬ জন যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে, ১৫ জনের পরিবার উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে
রাশিয়ার পেনজা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক মো. আলী হাসান সোহেলের কাঁদতে কাঁদতে আহ্বান জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে আমাদেরকে। সুস্থ হলে তো আবার যুদ্ধে পাঠিয়ে দেবে’। তিনি বলেছেন, প্রতারিত হয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে পড়েছেন তিনি ও ২৯ জন বাংলাদেশি। ইতিমধ্যে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৬ জন যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়েছেন, আর ১৫ জনের মধ্যে ২ জন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন। বাকি দুজন হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রাশিয়ার পেনজা শহরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন** বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক আলী হাসান সোহেল বলেছেন, ‘যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে আমাদেরকে। সুস্থ হলে আবার যুদ্ধে পাঠিয়ে দেবে’।
- 📌 **৩০ জন বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকের মধ্যে ২০ জন নিহত**, ৬ জন যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে, ২ জন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন, বাকি ২ জন হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
- 📌 **প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে পড়েছেন** ৩০ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ১৬ জনের দল থেকে ১৪ জন নিখোঁজ, বাকি ২ জন হাসপাতালে ভর্তি।
- 📌 **মাত্র পাঁচ দিন প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়** বাংলাদেশিদের। সেনাবাহিনী তাদেরকে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করছে। যুদ্ধে রাজি না হলে মারধর ও বন্দী রাখা হয়।
- 📌 **আলী হাসানের স্ত্রী আকলিমা খাতুন** প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন, রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
- 📌 **প্রথম আলো অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু** সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে, যারা রাশিয়ায় প্রতারিত হয়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মো. আলী হাসান সোহেলের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায়। তিনি রাশিয়ার পেনজা শহরের একটি হাসপাতালে ১ মাস ১০ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল বুধবার প্রথম আলোর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এ জীবন কেউ চায় না। বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেছি, সুস্থ হলে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু সুস্থ হলে তো আবার যুদ্ধে পাঠিয়ে দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক বছরে পায়ের ওপর দাঁড়াতে পারব কি না জানি না। কবে দেশে ফিরতে পারব, এই প্রার্থনা করি সারাক্ষণ। যেমনে পারেন, আমারে উদ্ধার করেন; পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।’
আলী হাসান বলেন, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে গত ৭ মে একসঙ্গে রাশিয়ায় যান ৩০ জন। তাদের মধ্যে তিনি একজন। প্রতারিত হয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে পড়েছেন তিনি ও বাকি ২৯ জন। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলা ১৫ জনের মধ্যে ১৬ জনের দলের সদস্য ছিলেন আলী হাসান। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ দিন প্রশিক্ষণ শেষে ষষ্ঠ দিনে পাঁচজনকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। এরপর মাইল পর মাইল হেঁটে শুকনো খাবার খেয়ে তিন দিন পর একটি মাটির নিচের সেনা ক্যাম্পে পৌঁছান। সেখানে তাদেরকে রাখা হয়। একপর্যায়ে তাদের দলের বাকি ১১ জনও যোগ দেন।
আলী হাসান আরও বলেন, ‘যুদ্ধে রাজি না হলে বন্দী করে রাখে, মারধর করে, শাস্তি দেয়। এরপর যেতে বাধ্য হতে হয়। অস্ত্র দিয়ে বলে, যুদ্ধ করতে হবে না; সামনে-পিছে, ডানে-বাঁয়ে যাবা। এটি টোপ, মরণফাঁদ। গেলেই ইউক্রেনের ড্রোনের হামলার শিকার হতে হয়। কেউ মারা যান। কেউ আহত হয়ে ফিরতে পারলে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।’ তিনি বলেন, ১৬ জনের দল থেকে ১৪ জন নিখোঁজ, আর বাকি ২ জন হাসপাতালে ভর্তি।
আলী হাসানের স্ত্রী আকলিমা খাতুন গত ২৬ জুলাই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় চাকরি করতে গিয়েছিলেন আলী হাসান। প্রতারিত হয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে পড়েছেন তিনি। পরিবার ঋণের কিস্তি পরিশোধে পাওনাদারদের চাপে আছে। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালে ভর্তি দুজনের দায়িত্ব বাংলাদেশ দূতাবাসকে নিতে হবে। তাঁদের সব ধরনের চিকিৎসা খরচ, পাওনা ও ক্ষতিপূরণ রাশিয়ার কাছ থেকে আদায় করতে হবে। সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
"যুদ্ধে রাজি না হলে বন্দী করে রাখে, মারধর করে, শাস্তি দেয়। এরপর যেতে বাধ্য হতে হয়। অস্ত্র দিয়ে বলে, যুদ্ধ করতে হবে না; সামনে-পিছে, ডানে-বাঁয়ে যাবা। এটি টোপ, মরণফাঁদ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পেনজা শহর, রাশিয়া (৭০০ কিলোমিটার দূরে মস্কো থেকে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আলী হাসান সোহেল, আকলিমা খাতুন, মো. পলাশ শেখ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন নির্মাণশ্রমিক (২০ নিহত, ৬ যুদ্ধক্ষেত্রে, ২ পালিয়ে, ২ হাসপাতালে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!