📌 রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি পুনরাবৃত্তি করলেও, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নীতি ব্যর্থতা পেরেছে। সোভিয়েত যুগের তুলনায় বর্তমান রাশিয়া আরব বিশ্বের কাছে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে
রাশিয়ার মধ্যপ্রাচ্য নীতি গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ভাষণে আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি তুলে ধরার মাধ্যমে ব্যর্থতার সাক্ষী হয়ে উঠেছে। মস্কোর দাবি, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয়তা নিশ্চিতকরণই এখন মধ্যপ্রাচ্যের মূল সমস্যা। তবে ১৯৪৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয়তার প্রতি সমর্থন থাকলেও, বাস্তবে রাশিয়া কেবল কূটনৈতিক বুলি ছাড়া আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি পুনরাবৃত্তি করলেও রাশিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেনি** — ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ার পরেও রাশিয়া তাদের সামরিক জোট ত্যাগ করেনি।
- 📌 **ইরানের প্রতি হালকা সমর্থন সোভিয়েত যুগের নীতির পুনরাবৃত্তি** — রাশিয়ার বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য নীতি সোভিয়েতদের সতর্ক ভারসাম্য রক্ষা কৌশলের চেয়ে আলাদা কিছু নয়।
- 📌 **আরব বিশ্বের কাছে বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পাচ্ছে** — গত সাড়ে তিন দশকে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সমন্বয় বৃদ্ধি করলেও ফিলিস্তিনি ও জায়নবাদ বিরোধী নীতিতে পরিবর্তন আনতে অস্বীকার করায় রাশিয়া আরব জনগণের কাছে দূরে সরে গেছে।
- 📌 **সোভিয়েত যুগে জায়নবাদ বিরোধিতা ছিল রাষ্ট্রীয় নীতি** — সোভিয়েত ইউনিয়ন জায়নবাদকে ঔপনিবেশিক আন্দোলন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল এবং ফিলিস্তিনিদের বিদ্রোহের অধিকার সমর্থন করেছিল।
- 📌 **ইহুদি কৃষি উপনিবেশের প্রকল্প ১৯২৪-৩৮ সাল পর্যন্ত চলেছিল** — সোভিয়েতরা আমেরিকান জুয়িশ জয়েন্ট ডিস্ট্রিবিউশন কমিটির সহায়তায় ইহুদিদের জন্য কৃষি বসতি স্থাপনের প্রকল্প চালু করেছিল।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয়তা নিশ্চিতকরণের দাবি পুনরাবৃত্তি করলেও, বাস্তবে রাশিয়া কেবল কূটনৈতিক বুলি ছাড়া আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ১৯৯১ সালে রাশিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ার পরেও রাশিয়া তাদের সামরিক জোট ত্যাগ করেনি। এই অবস্থানেই রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়ে আরব বিশ্বের কাছে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য নীতি সোভিয়েত যুগের নীতির পুনরাবৃত্তি মাত্র। সোভিয়েত ইউনিয়ন জায়নবাদকে ঔপনিবেশিক আন্দোলন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল এবং ফিলিস্তিনিদের বিদ্রোহের অধিকার সমর্থন করেছিল। তবে বর্তমান রাশিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সমন্বয় বৃদ্ধি করলেও ফিলিস্তিনি ও জায়নবাদ বিরোধী নীতিতে পরিবর্তন আনতে অস্বীকার করায় আরব বিশ্বের কাছে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সোভিয়েত যুগে জায়নবাদ বিরোধিতা ছিল রাষ্ট্রীয় নীতি। সোভিয়েতরা জায়নবাদকে ঔপনিবেশিক আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করত এবং ফিলিস্তিনিদের বিদ্রোহের অধিকার সমর্থন করত। একই সময়ে তারা ইহুদিদের জন্য কৃষি উপনিবেশ স্থাপনের প্রকল্প চালু করেছিল। এই প্রকল্প ১৯২৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত চলেছিল। সোভিয়েতরা ইহুদিদের জন্য দক্ষিণ ইউক্রেন, উত্তর ককেশাস, ভলগা অঞ্চল এবং ক্রিমিয়ায় কৃষি বসতি স্থাপনের জন্য আমেরিকান জুয়িশ জয়েন্ট ডিস্ট্রিবিউশন কমিটির সহায়তা নেয়েছিল।
"জাতিসংঘের অগণিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রীয়তা নিশ্চিত করাই এখন মধ্যপ্রাচ্যের মূল ইস্যু এবং এটি সমাধানের সময় এসেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (নিউ ইয়র্ক), মধ্যপ্রাচ্য, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সের্গেই লাভরভ (রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১ (৮১তম অধিবেশন), ১৯২৪-১৯৩৮ (ইহুদি কৃষি উপনিবেশ প্রকল্পের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!