📌 মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সতর্কবার্তায় জানা যায়, রাশিয়া ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। সমুদ্রের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত জাহাজ থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সতর্কবার্তায় প্রকাশ পেয়েছে রাশিয়ার একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনা। রাশিয়া দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বন্দর, বিমানবন্দর ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সিআইএর প্রধান জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের পরপরই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়া ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনের বন্দর, বিমানবন্দর ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
- 📌 সমুদ্রের আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা মালবাহী জাহাজ থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- 📌 রাশিয়া 'জারবেরা' ড্রোন ব্যবহার করবে, যা ২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২.৫ মিটার ডানার বিস্তার নিয়ে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে।
- 📌 ড্রোনের সর্বোচ্চ পাল্লা ৬০০ কিলোমিটার এবং এর বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা ৪-৫ কেজি।
- 📌 ২৫ আগস্ট সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করেন এবং এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
- 📌 ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক ডাকেন।
- 📌 রাশিয়ার লক্ষ্য হলো ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানো, বিশেষ করে ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে।
📰 বিস্তারিত
স্প্যানিশ দৈনিক মুন্দোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া পূর্ব ইউরোপ ও বাল্টিক অঞ্চলের বাইরে ভূমধ্যসাগরীয় এবং পশ্চিম ইউরোপীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে ইতালির উত্তর-পূর্ব অংশ (মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়া বাদে পুরো ভূখণ্ড), ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল (তুলুস ও মার্সেইসহ) এবং স্পেনের পূর্বাঞ্চলের অর্ধেক এলাকা। লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, রাশিয়া সমুদ্রে অবস্থানরত জাহাজ থেকে কনটেইনারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ড্রোন ব্যবহার করবে। এই ড্রোনগুলো সহজে ক্যাটাপল্টের সাহায্যে উড্ডয়ন করানো সম্ভব।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কৌশলবিদ কেয়ার জাইলসের মতে, রাশিয়ার লক্ষ্য কেবল সীমান্তঘেঁষা দেশগুলো নয়, ইউরোপের যেকোনো দুর্বল স্থানে আঘাত করা। তিনি বলেছেন, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকায় স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো রাশিয়ার ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানকারী পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানো। উল্লেখ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে ২০২৭ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৫ আগস্ট সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ মস্কো সফর করেন এবং এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। র্যাটক্লিফের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে কোনো ধরনের আক্রমণ না করার ব্যাপারে রাশিয়াকে হুঁশিয়ার করা। অন্যদিকে, ড্যানিশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাও জানিয়েছে, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তবে এখনও সরাসরি কোনো পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকলেও তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই সতর্কবার্তা প্রকাশের পর ইতালিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইতালীয় প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি লিয়া কোয়ার্তাপেল সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তবে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো স্প্যানিশ পত্রিকার এই তথ্যকে অমূলক বলে দাবি করেছেন।
"রাশিয়ার সীমান্ত থেকে দূরত্ব স্পেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। রাশিয়ার লক্ষ্য কেবল সীমান্তঘেঁষা দেশগুলোই নয়, ইউরোপের যেখানেই দুর্বলতা রয়েছে তারা সেখানেই আঘাত করবে।"
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কৌশলবিদ কেয়ার জাইলস
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন (বিশেষত বন্দর, বিমানবন্দর ও কৌশলগত অবকাঠামো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভ্লাদিমির পুতিন, জন র্যাটক্লিফ, ইমানুয়েল মাখোঁ, কেয়ার জাইলস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ মিটার (ড্রোন দৈর্ঘ্য), ২.৫ মিটার (ডানার বিস্তার), ১৬০ কিলোমিটার (গতি), ৬০০ কিলোমিটার (পাল্লা), ৪-৫ কেজি (বিস্ফোরক), ২৫ আগস্ট (সিআইএ সফর), ১৬ সেপ্টেম্বর (ফ্রান্সের বৈঠক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!