📌 মার্কো রুবিও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘মৃত্যুর পূজারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রাচীন পারস্যের আক্রমণকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান ও সংসদ স্পিকার ইতিহাসের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন এবং রুবিওকে ‘অনুচিত ইতিহাসবাদের’ অভিযোগ করেছেন।
মার্কো রুবিওর প্রাচীন পারস্যের ইতিহাসের ব্যবহার ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রিক অ্যাক্রোপলিসের পটভূমিতে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘মৃত্যুর পূজারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং তাদেরকে ‘রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য শহীদত্বকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার এই বক্তব্য ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিক অ্যাক্রোপলিসের পটভূমিতে বক্তৃতা দিয়েছেন, যেখানে তিনি প্রাচীন পারস্যের আক্রমণকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘মৃত্যুর পূজারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
- 📌 রুবিও বলেছেন, “পারসিয়ানরা মন্দির লুট করেছিল, শৃঙ্গালা জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং অ্যাক্রোপলিস ধ্বংস করে ফেলেছিল”। তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য শহীদত্বকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- 📌 ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই ও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ইরানের ইতিহাসের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন এবং রুবিওকে বলেছেন, “যে কেউ ইতিহাসকে এই বিষয়ে ব্যবহার করবে, সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির জন্য প্রস্তুত হতে হবে”।
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রুবিওকে অভিযুক্ত করেছে যে তিনি গ্রিক, রোমান, খ্রিস্টান এবং আধুনিক ইতিহাসকে ‘সরলীকৃত’ করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতিকে বৈধতা দিতে এই ইতিহাসবাদের ব্যবহার করছে।
- 📌 ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রী রেজা সালেহি-আমিরি পশ্চিমা নেতাদের ইরানের প্রতি ‘সম্মানের ভাষায়’ কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ ইরান “একটি জীবন্ত সভ্যতা, একটি মহান জাতি এবং বিশ্ব ইতিহাসে বহু শতাব্দী পুরানো একটি বাস্তবতা”।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার বক্তৃতায় প্রাচীন পারস্যের ইতিহাসের উল্লেখ করে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের সম্মুখীন হওয়া হুমকি আজকের দিনের মতোই প্রকৃত এবং তা প্রাচীনকালের নাটকীয় দৃশ্যে ঘটেছিল।” তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে “অপরাধবোধহীন জাতীয় শক্তির অনুসরণ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই ও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ রুবিওর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “যে কেউ ইতিহাসকে এই বিষয়ে ব্যবহার করবে, সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।” তারা রুবিওর বক্তব্যের উল্লেখ করে রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি ২৬০ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের রাজা শাপুর প্রথমের হাতে যুদ্ধে পরাজিত হন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস্মাইল বাগহাই বলেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনে হয়, তারা বিশ্বকে ‘ইতিহাসের দর্শনের’ নিরবচ্ছিন্ন আলোতে তাদের বাধন ও বশ্যতার নীতিকে বৈধতা দিতে চায়, না যে তারা ‘গায়দা বুলি’ করে কাউবয় ভাষায় কথা বলছে।” তিনি রুবিওকে অভিযুক্ত করেছেন যে তিনি “অনুচিত ইতিহাসবাদের” ব্যবহার করছেন, যা দীর্ঘকাল ধরে গোপন থাকা ইতিহাসের ঘটনাগুলিকে আধুনিক সময়ের বৈধতা দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রী রেজা সালেহি-আমিরি বলেছেন, “পশ্চিমা নেতারা ইরানের সাথে ‘সম্মানের ভাষায়’ কথা বলতে পারেন, কারণ ইরান ‘একটি জীবন্ত সভ্যতা, একটি মহান জাতি এবং বিশ্ব ইতিহাসে বহু শতাব্দী পুরানো একটি বাস্তবতা’।” তিনি ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
"পারসিয়ানরা মন্দির লুট করেছিল, শৃঙ্গালা জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং অ্যাক্রোপলিস ধ্বংস করে ফেলেছিল।"
"যে কেউ ইতিহাসকে এই বিষয়ে ব্যবহার করবে, সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রিক অ্যাক্রোপলিস (বক্তৃতা), তেহরান (প্রতিক্রিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কো রুবিও (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী), মোহসেন রেজাই (ইরানের নিরাপত্তা প্রধান), মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ (ইরানের সংসদ স্পিকার), রেজা সালেহি-আমিরি (ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮০ খ্রিস্টপূর্ব, ২৬০ খ্রিস্টাব্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!