📌 ভারতের শাসক সংগঠন আরএসএস দাবি করেছে, বর্তমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পিছনে কমিউনিস্ট, মাওবাদী ও ইসলামপন্থীদের ষড়যন্ত্রের হাত রয়েছে। তারা বলছে, এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ভারতের একতা ও উন্নয়নকে ধ্বংস করা
ভারতের শাসক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) দাবি করেছে, বর্তমান সরকারবিরোধী সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পিছনে কমিউনিস্ট, মাওবাদী ও ইসলামপন্থীদের ষড়যন্ত্রের হাত রয়েছে। তাদের মতে, এই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো উত্থিত ভারতের একতা ও উন্নয়নকে ধ্বংস করা। আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এর সম্পাদকীয়ে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সম্পাদকীয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভের পিছনে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের ভূমিকা রয়েছে এবং তারা গান্ধীবাদ ও আম্বেদকরকে ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে চাইছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আরএসএস দাবি করেছে, বর্তমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পিছনে কমিউনিস্ট, মাওবাদী ও ইসলামপন্থীদের ষড়যন্ত্রের হাত রয়েছে।
- 📌 সম্পাদকীয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভের মাধ্যমে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
- 📌 তিনটি বিক্ষোভের উল্লেখ করা হয়েছে: আইআইটি বোম্বের ছাত্রের আত্মহত্যা, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর), এবং ইউপিআই পেমেন্টের এমডিআর (০.৪%) নিয়ে আন্দোলন।
- 📌 সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, বিদেশের ভারতবিরোধী শক্তিগুলো এই ষড়যন্ত্রে অর্থসাহায্য করছে।
- 📌 ইউপিআই পেমেন্টের এমডিআর চালুর বিরুদ্ধে আরএসএসের ঘনিষ্ঠ সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ আগেই সমালোচনা করেছিল।
- 📌 বিরোধীরা দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই ইউপিআই পেমেন্টের এমডিআর চালু করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
আরএসএসের সম্পাদকীয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাধ্যমে ভারতের জাতিগত, ভাষাগত ও ধর্মগত পরিচিতিকে নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্পাদক প্রফুল্ল কেতকর বলেছেন, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে গান্ধী ও আম্বেদকরের নাম ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনে গান্ধী ও আম্বেদকরকে মার্ক্সবাদী ও মাওবাদীরা ব্যবহার করে জাতপাতের বিষয়কে বড় করে তুলছে।
সম্পাদকীয়ে তিনটি বিক্ষোভের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, আইআইটি বোম্বের এক ছাত্রের আত্মহত্যা ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই ঘটনাকে জাতপাতের রং দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের চাপের বিষয়টি অনুসন্ধান করা উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক বৈধতা থাকা সত্ত্বেও এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তৃতীয়ত, ইউপিআই পেমেন্টের এমডিআর (০.৪%) নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, ইউপিআই ভারতের অনন্য ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং এই আন্দোলনের মাধ্যমে সেই কৃতিত্ব ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সম্পাদকীয়ে আরএসএসের ঘনিষ্ঠ সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা আগেই বলেছিলেন, ইউপিআই পেমেন্টের এমডিআর চালুর ফলে ইউপিআই ব্যবস্থা জনপ্রিয়তা হারাবে এবং মানুষ ভিসা বা মাস্টারকার্ডের দিকে ঝুঁকবে। আরএসএসের সম্পাদকীয়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইউপিআই পেমেন্টের এমডিআর চালুর সিদ্ধান্তটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করেছে, ভিসা-মাস্টারকার্ডের বাণিজ্যিক স্বার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
"গণতন্ত্রে ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকবেই। কিন্তু এসব আন্দোলনে গান্ধী ও আম্বেদকরকে মার্ক্সবাদী ও মাওবাদীরা যেভাবে তুলে ধরছে, সেটাই সমস্যা। এভাবে তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতপাতের ইস্যুকে সামনে টেনে আনছে। সরকারের প্রতি মানুষের মন বিষিয়ে দিতে চাইছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রফুল্ল কেতকর (অর্গানাইজার সম্পাদক), রাহুল গান্ধী, নরেন্দ্র মোদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০.৪ শতাংশ (এমডিআর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!