📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঝুঁকি তুলে ধরেন এবং পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিপদজনক অবস্থার কথা তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ মাত্র ০.৫ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে ডুবে যেতে পারে, যা কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করবে
- 📌 ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে
- 📌 ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে
- 📌 পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী: গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে এবং ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের অর্থ পুনঃপূরণ নিশ্চিত করতে
- 📌 চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ। খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে এখন সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। তিনি পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন:
"১. প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে। ২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ৩. জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ সম্ভব করতে হবে। ৪. সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে। ৫. ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, জাতিসংঘ সদর দপ্তর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা, ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট বরাদ্দ, ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!