📌 মণিপুরে গত সপ্তাহে কুকি ও নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা বেড়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ১৭ বছর বয়সী উইফেনবোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত দুদিনে সাতজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন একসাথে। মানবাধিকার কর্মী বলেছেন, জমি দাবি ও কট্টরপন্থীদের হাত থেকে এই সহিংসতা চলছে। গত সাত মাসে ৫০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে
মণিপুরে কুকি ও নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা ক্রমাগত বাড়ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর মণিপুরের তামেংলং জেলার আপার এনকৌ গ্রামের ১৭ বছর বয়সী এনকে উইফেনবোকে সশস্ত্র হামলাকারীরা গুলি করে হত্যা করেছে। একাদশ শ্রেণির ছাত্র উইফেনবো খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে তামেই শহরে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে তার বাবা মাহিনলাকবোউ ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার নির্দোষ ছেলেকে এত নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, তার অপরাধটা কী ছিল?’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর ১৭ বছর বয়সী উইফেনবোকে গুলি করে হত্যা করা হয়, তিনি ছিলেন মণিপুরের তামেংলং জেলার বাসিন্দা
- 📌 গত ১৫ সেপ্টেম্বর লেইসাংফাই গ্রামে দু’জন নারীকে হত্যা করা হয়, তাদের বয়স ছিল ৬০ ও ৩০ বছর
- 📌 গত দুদিনে সাতজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শনিবার সেনাপতি জেলায় এক হামলায় তিনজন একসাথে নিহত হন
- 📌 গত সাত মাসে মণিপুরে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, সহিংসতা কুকি-জো ও তাংখুল নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে
- 📌 মানবাধিকার কর্মী বলেছেন, জমি দাবি ও কট্টরপন্থীদের হাত থেকে এই সহিংসতা চলছে
📰 বিস্তারিত
মণিপুরের সহিংসতার ইতিহাস দীর্ঘ। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা কুকি-জো ও তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুই সম্প্রদায়ের বসবাস রাজ্যের ১১টি পার্বত্য জেলায়। সেনাপতি, উখরুল, তামেংলং, কামজং ও নোনি জেলায় নাগাদের প্রাধান্য রয়েছে, অন্যদিকে চুরাচাঁদপুর, কাঙপোকপি, তেংনৌপাল ও চান্দেল জেলায় কুকিদের প্রভাব বেশি।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি উখরুল জেলার লিটন গ্রামে কুকি ও নাগা যুবকদের মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর কিছু সশস্ত্র দুষ্কৃতী গ্রামের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। মানবাধিকার কর্মী কে ওনিল বলেছেন, ‘কুকি-নাগা সঙ্ঘাতের মূল কারণ জমি। নাগা-অধ্যুষিত এলাকায় কুকিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’
১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল, যার ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। সেই সময়ে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন। সাম্প্রতিক সহিংসতায় সাধারণ মানুষ সরাসরি একে অপরকে হত্যা করছে না। প্রায় সব হামলায় ‘কট্টরপন্থী’ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নাগা সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলো ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’র আওতায় থাকা কুকি সশস্ত্র কট্টরপন্থীদের দায়ী করেছে।
"আসলে নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কুকিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, আর সে কারণেই এই সহিংসতা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মণিপুর (তামেংলং, লেইসাংফাই, সেনাপতি, উখরুল, কামজং জেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এনকে উইফেনবো (১৭), মাহিনলাকবোউ, কে ওনিল (মানবাধিকার কর্মী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ জনেরও বেশি মৃত্যু (গত সাত মাসে), ১৭ বছর বয়সী উইফেনবো, ৬০ ও ৩০ বছর বয়সী নারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!