📌 কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষের ওপর পরপর দুই দিনে সশস্ত্র হামলা হয়। তিনি বিজেপিকে দায়ী করে রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলেন, কিন্তু বিজেপি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দাবি করে। পুলিশ তদন্ত চলছে
কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষের ওপর পরপর দুই দিনে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ঘটনায় বিজেপির প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে নেতা দাবি করেছেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনের আগে তাঁকে স্তব্ধ করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। তবে বিজেপি এই দাবি অস্বীকার করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দাবি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রোববার সকালে বেলেঘাটায়** সশস্ত্র বাইক আরোহীদের দল কুণাল ঘোষের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং হাতুড়ি দিয়ে তাঁর হাতে আঘাত হানে। পুলিশের স্পেশাল সিকিউরিটি অফিসার (পিএসও) আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
- 📌 **শনিবার দুপুরে উত্তর পাড়া থেকে শ্রীরামপুরে** মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যাওয়ার পথে পাথর, ইট ও রড নিক্ষেপ করে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভাঙা হয়।
- 📌 **হামলায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের** বিষয়টি তদন্তে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ। নারকেলডাঙা থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের এবং মামলা বেলেঘাটা থানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
- 📌 **তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়** রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
- 📌 **বিজেপি নেতা তাপস রায়** এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল বলে দাবি করেছেন এবং আক্রমণের জন্য বিজেপির হাত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
📰 বিস্তারিত
গত রোববার সকালে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় কুণাল ঘোষের গাড়ি ঘিরে ফেলে সশস্ত্র বাইক আরোহীদের একটি দল। তাঁর জামার কলার ধরে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করে এবং হাতুড়ি দিয়ে তাঁর হাতে আঘাত হানে। পরিস্থিতি মারাত্মক হলে পুলিশের স্পেশাল সিকিউরিটি অফিসার (পিএসও) নিজের আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, আসন্ন কলকাতা পৌর সংস্থা নির্বাচনের আগে তাঁকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত সাজানো হয়েছিল। তিনি এই আক্রমণের জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছেন।
শনিবার দুপুরে উত্তর পাড়ার মধ্য দিয়ে শ্রীরামপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে একদল দুষ্কৃতকারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে। সেই সময়ে গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, ইট, ডিম নিক্ষেপ এবং রড দিয়ে হামলা চালিয়ে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ও জানালার কাচ চুরমার করে দেওয়া হয়। কুণাল ঘোষ জানান, আগের দিন নিজের গাড়ি ভাঙচুর হওয়ায় তিনি রোববার এক পরিচিত ব্যক্তির গাড়িতে যাতায়াত করছিলেন। বেলেঘাটায় পুরকর্তাদের সঙ্গে সভা করতে যাওয়ার পথে নারকেলডাঙা ব্রিজ ও ফুলবাগান মোড়ের মধ্যবর্তী জায়গায় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা প্রায় এক কিলোমিটার পথ তাঁর পিছু নেয়। শেষে ফুলবাগান ও নারকেলডাঙা মেইন রোডের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেল আরোহীরা পথ আটকে তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং রিভলবার উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িচালকের তৎপরতার কারণে তিনি রক্ষা পান। হামলায় ঘাবড়ে না গিয়ে তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নারকেলডাঙা থানাতে ঢুকে পড়ায় প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। পুলিশ প্রশাসন ঘটনার বিবরণ গ্রহণ করে মামলা রেকর্ড করেছে। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ও বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য নারকেলডাঙা থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়েছে এবং সংগৃহীত সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার জন্য মামলাটি বেলেঘাটা থানায় স্থানান্তরিত করার কথা জানানো হয়েছে।
"আসন্ন পৌর নির্বাচনের আগে আমাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত সাজানো হয়েছিল। এই আক্রমণের জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা (বেলেঘাটা, উত্তর পাড়া, নারকেলডাঙা, ফুলবাগান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কুণাল ঘোষ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস রায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (দিন), ১ (কিলোমিটার), ১ (গাড়ি), ১ (রিভলবার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!