📌 নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পশ্চিমা সাহিত্য জগতে দ্রুত খ্যাতি অর্জন করলেও আত্মবিশ্বাসের অভাবে নিজের ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে পাউন্ড ও ইয়েটসের সমালোচনার মুখে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুতই পতন ঘটে, যা তাঁর নিজের কথায় ‘স্বর্গ হইতে বিদায়’-এর মতোই ছিল
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের এক অন্যতম মাইলফলক ছিল নোবেল পুরস্কার। কিন্তু পশ্চিমা সাহিত্য জগতে তাঁর দ্রুত খ্যাতি অর্জনের পেছনে ছিল একদিকে তাঁর গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ এবং অন্যদিকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাহিত্যিকদের অপ্রত্যাশিত সমালোচনা। নোবেল কমিটি তাঁকে ‘অসামান্য দক্ষতায়’ পাশ্চাত্য সাহিত্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পুরস্কার দিয়েছিল, কিন্তু কবির নিজের অনুবাদ নিয়ে পাউন্ড ও ইয়েটসের আপত্তি তাঁকে দিশাহারা করে দিলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমা সাহিত্যে দ্রুত খ্যাতি পেলেও নিজের অনুবাদ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন।
- 📌 ১৯১৫ সালে নিউইয়র্কের কার্নেগি হলে তাঁর ভাষণে সমাগম হয়েছিল এমন ভিড় যে অনেকে মেঝেতে বসে শুনতেন।
- 📌 পাউন্ড ও ইয়েটস তাঁকে ‘অপাঠ্য’ বলে সমালোচনা করলেও, রবীন্দ্রনাথ নিজের অনুবাদ প্রকাশের জন্য ব্রিটিশ প্রকাশক ম্যাকমিলানের তাগিদে মেতে ওঠেন।
- 📌 আজও পশ্চিমে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘প্রাচ্যদেশীয় চকমকি’ ছাড়া আর কিছু নয়, বলে মনে করা হয়।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি অনুবাদক ও রবীন্দ্র-ভক্তরা ডিজিটাল আর্কাইভ ও নাট্যোৎসবের মাধ্যমে তাঁর পুনর্মূল্যায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্বর্গ হইতে বিদায়’ কবিতাটি তাঁর নিজের জীবনের মতোই ছিল। পশ্চিমা সাহিত্য জগতে তাঁর দ্রুত খ্যাতি অর্জনের পেছনে ছিল নোবেল পুরস্কার। ১৯১৩ সালে তিনি প্রথম এশীয় ও প্রথম অশ্বেতাঙ্গ লেখক হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। পুরস্কারটি তাঁকে দেওয়া হয়েছিল তাঁর ইংরেজি অনুবাদিত গীতাঞ্জলি: সং অফারিংস কাব্যসংকলনের জন্য। নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ‘তাঁর গভীর সংবেদনশীল কবিতায় পাশ্চাত্য সাহিত্যে তাঁর অবদান অসামান্য’।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথের খ্যাতি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কবি নিজেও এই স্বীকৃতিতে খুশি ছিলেন। বিশেষত তাঁর ইংরেজি অনুবাদের জন্য পাউন্ড ও ইয়েটসের প্রশংসা পাওয়ার পর তিনি আরও আত্মবিশ্বাসী হন। কিন্তু তাঁর অনুবাদ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এজরা পাউন্ড ও উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস তাঁর অনুবাদকে ‘অপাঠ্য’ বলে সমালোচনা করেন। ইয়েটস এমনকি তাঁর হাতে লেখা গীতাঞ্জলির পাণ্ডুলিপি নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। পরে তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো ভারতীয়ই ইংরেজি জানে না’।
রবীন্দ্রনাথ নিজেও তাঁর অনুবাদ নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারান। তিনি তাঁর বন্ধু রটেনস্টাইনকে লেখা এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘আমি জানি, তড়িঘড়ি করে প্রস্তুত এই লেখায় বিদেশি চকমকি আর বিদেশি ভাবভঙ্গি জুড়ে দিয়ে আপনাদের গৌরবের প্রদেশে নাক গলানো আমার কিছুতেই ঠিক হয়নি’।
১৯১৫ সালে নিউইয়র্কের কার্নেগি হলে তাঁর ভাষণে এমন ভিড় হয়েছিল যে অনেকে আসন না পেয়ে মেঝেতে বসে বা সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে শুনতেন। কিন্তু খ্যাতির এই স্বর্গ থেকে পাঁচ বছর পেরোনোর আগেই তিনি পড়েন দিশাহারা। পাউন্ড ও ইয়েটসের সমালোচনা তাঁকে আঘাত করেছিল। তাঁর নিজের অনুবাদ প্রকাশের জন্য ব্রিটিশ প্রকাশক ম্যাকমিলানের তাগিদে তিনি মেতে ওঠেন, যা পাউন্ডকে আরও ক্ষিপ্ত করে তোলে।
আজও পশ্চিমে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘প্রাচ্যদেশীয় চকমকি’ ছাড়া আর কিছু নয়, বলে মনে করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি অনুবাদক ও রবীন্দ্র-ভক্তরা তাঁর পুনর্মূল্যায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। উইলিয়াম রাদিচে, অ্যান্ড্রু রবিনসন ও কেতকী কুশারী ডাইসন সহ অনেক অনুবাদক তাঁর কবিতার নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। মার্কিন রবীন্দ্র-ভক্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁরা টেগোর সোসাইটি গড়ে তুলেছেন। তাঁদের উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি হয়েছে এবং রবীন্দ্রজয়ন্তী ও নাট্যোৎসব আয়োজিত হয়।
"আমি জানি, তড়িঘড়ি করে প্রস্তুত এই লেখায় বিদেশি চকমকি আর বিদেশি ভাবভঙ্গি জুড়ে দিয়ে আপনাদের গৌরবের প্রদেশে নাক গলানো আমার কিছুতেই ঠিক হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র; ইউরোপ; ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, এজরা পাউন্ড, উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস, উইলিয়াম রাদিচে, অ্যান্ড্রু রবিনসন, কেতকী কুশারী ডাইসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯১৩ (নোবেল পুরস্কার), ১৯১৫ (নিউইয়র্ক ভাষণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!