📌 প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী মার্কিন গবেষক জ্যাক ওয়েইস ২৩০০টিরও বেশি চাকরি আবেদন করলেও কোনো চাকরি পাননি। নোবেল কমিটির উল্লেখযোগ্য গবেষণার পরও বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতা তার জীবনে চিহ্নিত হয়েছে
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী মার্কিন গবেষক জ্যাক ওয়েইস ২৩০০টিরও বেশি চাকরির আবেদন করলেও কোনো চাকরি পাননি। নোবেল কমিটির উল্লেখযোগ্য গবেষণার পরও বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতা তার জীবনে চিহ্নিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সী ওয়েইস বর্তমানে বাবা-মায়ের বাড়ির বেসমেন্টে বসবাস করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩০০+ চাকরি আবেদন প্রত্যাখ্যাত: প্রিন্সটন পিএইচডি গবেষক জ্যাক ওয়েইস ২৩০০টিরও বেশি চাকরির আবেদন করলেও কোনো চাকরি পাননি।
- 📌 নোবেল কমিটির উল্লেখযোগ্য গবেষণা: ওয়েইসের গবেষণা বিষয় ছিল বরফ তৈরির রাসায়নিক নীতি, যা ২০২৪ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারের সময় নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছিল।
- 📌 বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতা: যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
- 📌 বেশিরভাগ চাকরি আবেদন প্রত্যাখ্যাত: ওয়েইসের ১০০টি চাকরির আবেদনের মধ্যে কোনোটিই সফল হয়নি।
- 📌 এআই প্রশিক্ষণ কাজ হারান: ওয়েইস কিছুদিন এআই প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
📰 বিস্তারিত
৩০ বছর বয়সী জ্যাক ওয়েইস যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটিতে বসবাস করেন। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ওয়েইস রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুমা কাম লাউডে সম্মান নিয়ে স্নাতক হন এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির পেছনে থাকা রাসায়নিক নীতি এবং অণুগুলির পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ।
২০২৪ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল কমিটি তাঁর গবেষণার উল্লেখ করেছিল। এত উচ্চমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও গবেষণার চাকরি এবং পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ পেতে হিমশিম খাচ্ছেন ওয়েইস। তাঁর বহু চাকরির আবেদনের কোনও উত্তরই আসেনি। অন্য অনেক আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিজের বিশেষজ্ঞতার ক্ষেত্রের বাইরেও চাকরির সন্ধান শুরু করতে বাধ্য হন তিনি।
ওয়েইসের বাবা চিকিৎসক জন ওয়েইস দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘আমরা কখনও ভাবিনি, ওকে এমন সমস্যায় পড়তে হবে। ও একজন ঈগল স্কাউট, অন্যদের সাহায্য করে, পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন এবং শারীরিকভাবেও সুস্থ। ও আমার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান, আমার চেয়ে ভালোভাবে নিজের কথা প্রকাশ করতে পারে। ইতিহাস সম্পর্কে ওর জ্ঞান যেন বিশ্বকোষের মতো।’
অ্যালিসিয়া কনট্রেরাসও একই সমস্যার মুখে পড়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির প্রাক্তন আধিকারিক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটির বিদেশে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের বড় অংশ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে তিনি চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন। এমবিএ ডিগ্রিধারী কনট্রেরাসের সরকারি পরিষেবায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ১৭ বছরের। ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলে ফিরে আসার পর ছয় মাসে তিনি প্রায় ১০০টি চাকরির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কোনও চাকরির প্রস্তাব পাননি।
"এখানকার চাকরির বাজার বেশ খারাপ। একবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে ভিডিও সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুরোধ পেয়েছিলাম। তা ছাড়া, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছি। আমার মনে হয়, বাজারে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।"
অ্যান্ড্রু হাডসনের জবস লিস্ট ইনকর্পোরেটেডের প্রায় ২১৮ জন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা চাকরির আবেদনের পর নিয়োগকর্তাদের কোনও উত্তর না পাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। অন্য চাকরিপ্রার্থীরা বয়সের কারণে বৈষম্য, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ভুয়ো চাকরির বিজ্ঞাপনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এআইয়ের ব্যবহার নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও যান্ত্রিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগবিহীন করে তুলছে।
ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কাজ করা প্রযুক্তি সংস্থা মারকোরের সাথে ওয়েইস কিছুদিনের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করতেন। কাজটি দিয়েছিল প্রযুক্তি সংস্থা মারকোর। সংস্থাটি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করে তাঁদের নিজ নিজ বিষয়ের জ্ঞান ব্যবহার করে এআই ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। গত বছর মারকোরের বাজারমূল্য ছিল ১০০০ কোটি ডলার। ওয়েইস এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-সংক্রান্ত প্রশ্ন তৈরি করতেন। এআইয়ের দেওয়া উত্তর মূল্যায়ন করতেন এবং উত্তরগুলিকে আরও উন্নত করতেন। কিন্তু সপ্তাহে তাঁর কাজের সময় কখনও চার ঘণ্টা, কখনও ২০ ঘণ্টা হতো। শেষ পর্যন্ত সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিয়মিত আয়ের কোনও পথ আর অবশিষ্ট থাকেনি তাঁর।
"মারকোরের সঙ্গে বন্ধুত্বের অবসান হয়েছে। এখন বেকারত্বই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটি, ওয়াশিংটন ডিসি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যাক ওয়েইস, জন ওয়েইস, অ্যালিসিয়া কনট্রেরাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩০০+ চাকরি আবেদন, ৩০ বছর বয়স, ১০০০ কোটি ডলার (মারকোরের বাজারমূল্য), ৬১ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী উদ্বিগ্ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!