📌 প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডক্টর জ্যাক ওয়েইস ২০২৪ সাল থেকে ২ হাজার ৩০০টি চাকরি আবেদন করলেও কাজ পাননি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটিতে পরিবারের সঙ্গে বেজমেন্টে বসবাস করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটির বাসিন্দা জ্যাক ওয়েইস প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডক্টর ডিগ্রি লাভ করেছেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি চাকরির জন্য আবেদন শুরু করেন, কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ পাননি। এ পর্যন্ত তিনি ২ হাজার ৩০০টি চাকরি আবেদন করেছেন, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হয়নি। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকছেন মা-বাবার বাড়ির বেজমেন্টে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডক্টর জ্যাক ওয়েইস ২০২৪ সাল থেকে চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু ২ হাজার ৩০০টি আবেদন করেও কাজ পাননি
- 📌 জ্যাকের গবেষণায় ২০২৪ সালে নোবেল কমিটি মনোযোগ দিয়েছিল, কিন্তু চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বেকারত্বের শিকার
- 📌 জ্যাকের চাকরি আবেদন প্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন, যার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পাচ্ছেন না
- 📌 জ্যাকের একমাত্র চাকরি ছিল এআই প্রশিক্ষণ দিতে, যেখানে ঘণ্টায় ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেতেন, কিন্তু মার্চে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়
- 📌 জ্যাক এখন নতুন গবেষণা ও ফেলোশিপের সুযোগ খুঁজছেন এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার কথাও ভাবছেন
📰 বিস্তারিত
জ্যাক ওয়েইস ২০১৮ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার জন্য ভর্তি হন। এর আগে তিনি রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন সর্বোচ্চ সাফল্যের সাথে। জ্যাকের গবেষণা ছিল বরফ তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে, যা ২০২৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া কমিটির মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।
চাকরি খুঁজতে শুরু করার পর জ্যাক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। শুরুতে তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাগারে চাকরির আবেদন করেন। পরে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও আবেদন করতে থাকেন। এমনকি খাবার তৈরির কাজের জন্যও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানই তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হয়নি। কখনো আবেদন করার পর কোনো উত্তর আসেনি, কখনো প্রত্যাখ্যানের বার্তা পেয়েছেন তিনি।
জ্যাকের একমাত্র চাকরি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ। সেখানে তিনি নিজের প্রকৌশল ও তরল বলবিদ্যা বিষয়ক জ্ঞান ব্যবহার করে এআইয়ের প্রশ্ন তৈরি করতেন। এআইয়ের দেওয়া উত্তর যাচাই করে সেগুলো আরও ভালো করার চেষ্টা করতেন। ঘণ্টায় ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেতেন তিনি। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।
জ্যাকের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারের একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করছে। দেশটিতে বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম হলেও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী তরুণদের জন্য কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে আগের চেয়ে সতর্ক। আবার চাকরির আবেদন বাছাই থেকে শুরু করে সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন ধাপে এআই ব্যবহৃত হচ্ছে।
জ্যাকের আশঙ্কা, অনলাইনে আবেদন করার পর জীবনবৃত্তান্ত হয়তো কোনো প্রযুক্তিনির্ভর বাছাইপ্রক্রিয়ায় আটকে যাচ্ছে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগদাতার কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন গবেষণা ও ফেলোশিপের সুযোগ খুঁজছেন এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার কথাও ভাবছেন। পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কাজ করার চেষ্টা করছেন। এআই ব্যবহার করে তিনি এমন একটি ড্রোনের নকশাও করেছেন, যা এলইডি লেজারের সাহায্যে ক্ষতিকর আগাছা ধ্বংস করতে পারে।
"ভালো ফল, উচ্চতর ডিগ্রি কিংবা গবেষণায় সাফল্য থাকলেই যে চাকরি নিশ্চিত, তা বলা যাচ্ছে না। এত আবেদন করেও যখন কাজ মেলে না, তখন হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। তবু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যাক ওয়েইস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার ৩০০টি চাকরি আবেদন, ঘণ্টায় ৭০ ডলার পারিশ্রমিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!