📌 যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তির আলোচনার পরও অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। হরমুজ ও লোহিত সাগরের অবরোধ, ইরানের প্রতিরোধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কঠোরতা সামরিক শক্তির ব্যর্থতা প্রদর্শন করছে। লেখকরা বলছেন, প্যাক্স আমেরিকানার অবসান নতুন অধিকার ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার জন্ম দিতে পারে
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরো গভীর হয়ে পড়েছে। শান্তির মধ্যেই যুদ্ধের আশঙ্কা এবং যুদ্ধের মধ্যেই শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেন এক অস্থির ভারসাম্য। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সইকৃত ৬০ দিনের আলোচনা স্মারক বাস্তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। বরং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে, যার ফলে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান হরমুজ প্রণালি খুলতে রাজি হয়নি; ইরান বলছে, চার দশক পুরানো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করবে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ইরান আত্মসমর্পণ করেনি; মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে
- 📌 গাজায় ইসরায়েলের ‘গাজা ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও লেবাননের সার্বভৌমত্ব আঘাত পাচ্ছে
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ‘শক্তিই ন্যায়’ নীতি প্রাধান্য পেয়েছে; ট্রাম্পের আমলে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ভণ্ডামিপূর্ণতা বেড়েছে
- 📌 লেখকরা বলছেন, প্যাক্স আমেরিকানার অবসান নতুন অধিকার ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার জন্ম দিতে পারে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের আলোচনা স্মারক সইকৃত হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং অঞ্চলে অস্থিরতা আরো বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে, যার ফলে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার বিমান হামলার পরও হরমুজ প্রণালি খুলতে রাজি হয়নি। তারা বলছে, চার দশক পুরানো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র উল্টো আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
লেখকরা উল্লেখ করেছেন, গাজায় ইসরায়েলের ‘গাজা ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও লেবাননের সার্বভৌমত্ব আঘাত পাচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে দুটি যুদ্ধবিরতি ও একটি শান্তিচুক্তি থাকা সত্ত্বেও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে লেবাননের সার্বভৌমত্ব কার্যত উপহাসে পরিণত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ‘শক্তিই ন্যায়’ নীতি প্রাধান্য পেয়েছে। ট্রাম্পের আমলে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ভণ্ডামিপূর্ণতা বেড়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন ইরাকে হামলার আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তি তুলে ধরত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে কোনো ধরনের পরামর্শ বা অনুমোদনের ভানও করছে না।
লেখকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধপরবর্তী ‘নিয়মভিত্তিক’ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। ড্রোন হামলায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে গুয়ানতানামো বে-তে অনির্দিষ্টকাল আটক—এক প্রজন্ম ধরে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মের সর্বজনীন প্রয়োগ সীমিত করেছে। তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ট্রাম্প নীতির পথ আগেই তৈরি হয়েছিল গাজায় গণহত্যার ঘটনায় আগের মার্কিন প্রশাসনের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। তবে প্রকাশ্য সামরিক শক্তিনির্ভর নীতির পরিবর্তন ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য দুর্বল করেছে।
"যুদ্ধবিরতি যেন যুদ্ধের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অস্থির শান্তি। শান্তির মধ্যেই যুদ্ধের আশঙ্কা, আবার যুদ্ধের মধ্যেই শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ প্যাক্স আমেরিকানার অবসানকে ত্বরান্বিত করছে, কিন্তু নতুন অধিকার ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার জন্ম দিতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি, গাজা, দক্ষিণ লেবানন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইরানের নেতৃত্ব, হুতিরা, নিকোলা মাদুরো, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জর্জ ডব্লিউ বুশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ দিন (আলোচনা স্মারক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!