📌 মার্কিন ড্রোন কোম্পানি পাওয়ারাস পাকিস্তানের সাথে চুক্তি করে ড্রোন বিক্রি করছে, কিন্তু এর সাথে ইসরায়েলের প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা সহপ্রতিষ্ঠাতার সম্পর্ক এবং ভারতের বাজারে প্রবেশের কারণে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে, তবে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের কারণে সন্দেহের আড়ালে রয়েছে এই চুক্তি
মার্কিন ড্রোন নির্মাতা কোম্পানি পাওয়ারাসের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংস্থার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোম্পানিটি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি ‘ছোট ক্রয়াদেশ’ পেয়েছে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তবে কোম্পানির ইসরায়েলের প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের বাজারে প্রবেশের কারণে এই চুক্তি নিয়ে সন্দেহের আড়ালে রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাওয়ারাস কোম্পানিটি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি ‘ছোট ক্রয়াদেশ’ পেয়েছে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে।
- 📌 কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য। পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে।
- 📌 পাওয়ারাসের সঙ্গে বৈঠক করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
- 📌 পাওয়ারাসের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর বলেছে, আলোচনা হয়েছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও উৎপাদনে সহযোগিতা নিয়ে। তবে সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেনি।
- 📌 পাওয়ারাসের ৯ দশমিক ৯ শতাংশ মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প বিনিয়োগ করেছেন।
- 📌 পাওয়ারাসের সঙ্গে চুক্তি করে ভারতের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি বিক্রির একচেটিয়া অধিকার দিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মাত্র এক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন ড্রোন নির্মাতা কোম্পানি পাওয়ারাসের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংস্থার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সামরিক সদর দপ্তরে পাওয়ারাসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। বৈঠকের এক দিন পর পাওয়ারাস জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তারা মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ইউএএস ব্যবস্থার জন্য একটি ‘ছোট ক্রয়াদেশ’ পেয়েছে। পাওয়ারাসের মুখপাত্র বলেছেন, সমঝোতা স্মারকটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সই হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ক্রয়াদেশটি দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য। পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তান যখন নিজেই ড্রোন তৈরি করে এবং চীন ও তুরস্ক থেকেও ড্রোন কেনে, তখন কেন মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছে যার সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্লেষক বিলাল খান আল জাজিরাকে বলেছেন, পাওয়ারাস যেসব ড্রোন প্রকাশ্যে দেখিয়েছে, সেগুলোর প্রতিটিই পাকিস্তান ইতিমধ্যে তৈরি করে অথবা তৈরির সক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের জন্য পাওয়ারাসের অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পাওয়ারাসের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পক্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, উৎপাদন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে এতে কোনো সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
"সমঝোতা স্মারকটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সই হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্রয়াদেশটি দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।"
পাওয়ারাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। এর মাধ্যমে কোনো ক্রয়ের বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদনের অধীন থাকবে। পাওয়ারাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ বলেছেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করতে পারায় তারা গর্বিত। তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে দুই পক্ষের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কৌশলগত কাঠামো তৈরি করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাকিস্তান (রাওয়ালপিন্ডি), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, ব্রেট ভেলিকোভিচ, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক ট্রাম্প, বিলাল খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ দশমিক ৯ শতাংশ (মালিকানা), ১৬ সেপ্টেম্বর (বৈঠক তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!