📌 পশ্চিম তীরের আল-মুগায়ির গ্রামের ৩২ বছর বয়সী আবদুল রহমান জাবর তার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য নিজের বাড়িতে তীক্ষ্ণ তার এবং লোহার ফাঁসা স্থাপন করেছেন। ইসরায়েলি বসতিবাসীদের হামলা বেড়ে গেছে, যেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৪,৭৪২টি হামলা হয়েছে। পালেস্টাইনিদের নিজস্ব রক্ষী দলগুলো বসতিগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে
পশ্চিম তীরের আল-মুগায়ির গ্রামে বসবাসকারী ৩২ বছর বয়সী আবদুল রহমান জাবর তার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য নিজের বাড়িতে তীক্ষ্ণ তার এবং লোহার ফাঁসা স্থাপন করেছেন। ইসরায়েলি বসতিবাসীদের হামলা বেড়ে গেছে, বিশেষ করে গাজার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে। আবদুল রহমানের বাড়ি ২০২৩ সালের প্রথম দিকে তার বিবাহের আগে নির্মিত হয়েছিল। বাড়িটি গ্রামের বাইরে অবস্থিত, যেখানে বসতিবাসীদের হামলার ইতিহাস রয়েছে। তার পরিবার — স্ত্রী এবং দুই বছর বয়সী কন্যা — এখনও বাড়িতে বসবাস করছেন, কিন্তু বসতিবাসীদের হামলা বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৪,৭৪২টি বসতিবাসী হামলা**: ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিবাসীরা পালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে মোট ১৪,৭৪২টি হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ৪,১১৩টি হামলা হয়েছে — যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি।
- 📌 **আবদুল রহমানের সংগ্রাম**: আবদুল রহমান তার বাড়িকে তীক্ষ্ণ তার এবং লোহার ফাঁসা দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, কারণ বসতিবাসীরা তার বাড়ি এবং প্রতিবেশীদের বাড়ি হামলা করছে। তিনি বলেছেন, “আমি আমার স্ত্রী ও কন্যার কথা ভাবতাম। আমি তাদের কীভাবে রক্ষা করবো যখন আমাদের জন্য কোনো রক্ষা নেই?”
- 📌 **নিজস্ব রক্ষী দল**: সিনজিল গ্রামের যুবকরা বসতিবাসীদের হামলা প্রতিহত করার জন্য একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক রক্ষী দল গঠন করেছেন। দলের সদস্য বেসেল আওয়াদ বলেছেন, “আমরা প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন বেসামরিক ব্যক্তি জড়ো হয় এবং বসতিবাসীদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে অবস্থান নেয়াম। কিন্তু ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আমাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে — ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।”
- 📌 **নাসর রাদওয়ানের প্রতিরোধ**: নাসর রাদওয়ান, যিনি বেইতিলু গ্রামের ১,৫০০ দুনাম জমির মালিক, তার পরিবার এবং বন্ধুরা প্রতিদিন জমিতে উপস্থিত থাকেন। তিনি বলেছেন, “বসতিবাসীরা আমাদের আক্রমণ করেছে, কিন্তু আমরা তাদের জমি ছেড়ে যাবো না।”
📰 বিস্তারিত
আবদুল রহমান জাবরের বাড়ি ২০২৪ সালের এপ্রিলে বসতিবাসীদের দ্বারা আগুন লাগানো হয়েছিল এবং তার বাড়ির জানালাগুলো পাথর দিয়ে ভাঙা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, “আমি আমার স্ত্রী ও কন্যার কথা ভাবতাম। আমি তাদের কীভাবে রক্ষা করবো যখন আমাদের জন্য কোনো রক্ষা নেই? আমি বাড়িকে তীক্ষ্ণ তার এবং লোহার ফাঁসা দিয়ে ঘিরে ফেলেছি। এটি যথেষ্ট নিরাপত্তা নাও হতে পারে, কিন্তু আমি একাকী এই একমাত্র পদক্ষেপ নিতে পারি।” তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের প্রতিবেশী পরিবারগুলোও নিজেদের বাড়ি রক্ষা করার জন্য ফাঁসা স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছে। আমরা অসংখ্য আবেদন করেছি, কিন্তু কেউ আমাদের শুনেনি, তাই আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। অন্তত এটি আমাদের জমিতে গবাদি পশুদের দূরে রাখতে সাহায্য করেছে।”
বেসেল আওয়াদ, যিনি সিনজিল গ্রামের রক্ষী দলের সদস্য, বলেছেন, “আমরা একটি টেন্ট জাবাল আল-বাতিন এলাকায় স্থাপন করেছিলাম, যা প্রায়শই বসতিবাসীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। শীতকালে সৈন্যরা এসে টেন্টের ভিতরে ধূমপান ক্যানিস্টার ছুঁড়ে দিয়েছিল। আমরা সবাই সফোকেশন থেকে ভুগছিলাম, তারপর তারা টেন্টটি ধ্বংস করে ফেলে এবং তা জব্দ করে নেয়।”
পশ্চিম তীরে বসতিবাসীদের হামলা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে পালেস্টাইনিদের নিজস্ব রক্ষী দলগুলো বাড়ছে। তারা তাদের পরিবার এবং সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য প্রতিদিন রাতের রক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
"আমি আমার স্ত্রী ও কন্যার কথা ভাবতাম। আমি তাদের কীভাবে রক্ষা করবো যখন আমাদের জন্য কোনো রক্ষা নেই? আমি বাড়িকে তীক্ষ্ণ তার এবং লোহার ফাঁসা দিয়ে ঘিরে ফেলেছি। এটি যথেষ্ট নিরাপত্তা নাও হতে পারে, কিন্তু আমি একাকী এই একমাত্র পদক্ষেপ নিতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আল-মুগায়ির গ্রাম, পশ্চিম তীর (রামাল্লাহের পূর্বে), সিনজিল গ্রাম, বেইতিলু গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল রহমান জাবর, বেসেল আওয়াদ, নাসর রাদওয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪,৭৪২টি বসতিবাসী হামলা (২০২৩-২০২৬), ৪,১১৩টি হামলা (২০২৬ সালের প্রথম সাত মাস), ৬৩% বৃদ্ধি (২০২৬ vs ২০২৫), ১,৫০০ দুনাম জমি (নাসর রাদওয়ানের মালিকানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!