📌 পাকিস্তানের রাজনীতি বর্তমানে বন্দী রাজনীতিবিদ ইমরান খানের চারপাশেই ঘোরাফেরা করছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে তেহরিক-ই-ইনসাফের লংমার্চের কারণে সরকার গভর্নরের শাসন জারি করেছে। ইতিহাসে এই ধরনের পদক্ষেপের পেছনে গভীর রাজনৈতিক কারণ রয়েছে
পাকিস্তানের রাজনীতিতে বর্তমানে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বন্দী রাজনীতিবিদ ইমরান খান। তিন বছর ধরে রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে কারাগারে বন্দী থাকা ইমরান খানের চারপাশেই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবর্তিত হচ্ছে। গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আদেশ উপেক্ষা করে শাহবাজ শরিফের সরকার তাকে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এই অবস্থায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের আদেশ উপেক্ষা করে শাহবাজ শরিফের সরকার ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে
- 📌 খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছেন
- 📌 সরকার লংমার্চ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে আফ্রিদিকে সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী হিসেবে অভিহিত করে গভর্নরের শাসন জারি করেছে
- 📌 পাকিস্তানের ইতিহাসে গভর্নরের শাসন জারি করা একটি পুনরাবৃত্ত ঘটনা, যা পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক সংকটে দেখা গিয়েছিল
- 📌 ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্টের সরকারের অবসান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর সামরিক অভিযানের ইতিহাসের সাথে এই পদক্ষেপের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য
📰 বিস্তারিত
গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের আল-শিফা হাসপাতালে স্থানান্তর করার আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু শাহবাজ শরিফের সরকার এই আদেশ উপেক্ষা করে তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নিয়ে যায়। পরে আবার তাকে আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে বন্দী করে রাখা হয়। এই অবস্থায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা দেন। সরকারের সাথে আলোচনার সময় আফ্রিদি বলেন, যদি ইমরান খান লংমার্চ বন্ধ করতে বলেন, তাহলে তারা তা বন্ধ করবেন। কিন্তু সরকার এই দাবিকে মেনে নেয়নি। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সরকার আফ্রিদিকে সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারি করে।
গতকাল রোববার শাহবাজ শরিফ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আফ্রিদিকে সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করার সিদ্ধান্ত নেন। পাকিস্তানের ইতিহাসে গভর্নরের শাসন জারি করা একটি পুনরাবৃত্ত ঘটনা। ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) যুক্তফ্রন্টের শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ইস্কান্দার মির্জার মাধ্যমে গভর্নরের শাসন জারি করা হয়েছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান চালানো হয়। প্রথমে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহিবজাদা ইয়াকুব আলী খানকে গভর্নর করা হয়, কিন্তু তিনি সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন। পরে জেনারেল টিক্কা খানকে গভর্নর করা হলেও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। এই ঘটনাগুলো পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রেখেছে।
১৯৭৩ সালে বেলুচিস্তানের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ মেঙ্গলের সরকারকে বরখাস্ত করে গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। সাবেক আইএসআই কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সৈয়দ গাউসকে গভর্নর করা হলেও তিনি প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। বর্তমানে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজনৈতিক সংকট এই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
"আমরা যদি ইমরান খানকে লংমার্চ বন্ধ করতে বলি, তাহলে আমরা তা বন্ধ করব। কিন্তু সরকার আমাদের দাবিকে মেনে নিচ্ছে না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাকিস্তান (ইসলামাবাদ, খাইবার পাখতুনখাওয়া, আদিয়ালা কারাগার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমরান খান, সোহেল আফ্রিদি, শাহবাজ শরিফ, এ কে ফজলুল হক, জেনারেল ইয়াহিয়া খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ (আগস্ট), ১০ (মাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!