📌 রিয়াদে অনুষ্ঠিত সভায় মেক্কা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা যেমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রিয়াদের নেতৃত্বে চলমান অভিযানে অংশগ্রহণ করবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, তাদের সৈন্যরা তদন্ত ও গোয়েন্দা কাজে জড়িত থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি লড়াই করবে না।
রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি জরুরি সভায় মেক্কা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা প্রথমবারের মতো যেমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রিয়াদের নেতৃত্বে চলমান সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করবে। সৌদি আরবের সাথে এই চুক্তি ২০২৬ সালের আগস্টে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সভায় চুক্তির শীর্ষ কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় যে, পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা সৌদি আরবের সীমান্তে দ্রুত তদারকি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেক্কা চুক্তি কার্যকর: পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের হুথি বিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ করবে।
- 📌 সৈন্যরা কী করবে? পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, তাদের সৈন্যরা গোয়েন্দা ও তদন্তে জড়িত থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবেন না।
- 📌 ১০০টি যুদ্ধবিমান: সৌদি আরবের নেতৃত্বে চলমান অভিযানে ১০০টি যুদ্ধবিমান হুথি দখলকৃত এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছে।
- 📌 পাকিস্তানের ইতিহাস: ১৯৬৭ সাল থেকে পাকিস্তান সৌদি আরবের সৈন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ১৯৮৫ সালের একটি গোপন CIA রিপোর্টে বলা হয়েছিল, তখন সৌদি সেনাবাহিনীতে ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য কর্মরত ছিলেন।
- 📌 তুরস্কের ভূমিকা: তুরস্কের সৈন্যরাও অংশগ্রহণ করছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় মেক্কা চুক্তির শীর্ষ কমিটি ঘোষণা দেয় যে, চুক্তির অধীনে পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা দ্রুত সৌদি আরবের সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মাল্কি জানান, হুথি বিদ্রোহীদের দখলকৃত এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য ১০০টি যুদ্ধবিমান সক্রিয় রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা গোয়েন্দা ও তদন্তে জড়িত থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবেন না। তিনি বলেন, “পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আমরা গোয়েন্দা ও তদন্তে জড়িত থাকলেও যুদ্ধের দায়িত্ব সৌদি আরবের সৈন্যরা নিচ্ছে।”
সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্কের ইতিহাস প্রাচীন। ১৯৬৭ সাল থেকে পাকিস্তান সৌদি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ১৯৮২ সালে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে পাকিস্তানের সৈন্যরা সৌদি আরবের সীমান্তে প্রতিরক্ষা দায়িত্ব পালন করত। ১৯৯০-৯১ সালের গলফ যুদ্ধে পাকিস্তানও সৌদি আরবের সৈন্যরাই প্রতিরক্ষা দায়িত্ব পালন করেছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি রণনীতিগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুসারে, কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হলে উভয় দেশই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তুরস্কের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, তুরস্কের সৈন্যরাও অংশগ্রহণ করছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি।
"সৈন্যরা দ্রুত কার্যকরভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং চুক্তি অনুযায়ী সৈন্য ও সামরিক ক্ষমতা সরবরাহ করবে।"
"পাকিস্তান ও তুরস্কের সৈন্যরা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আমরা গোয়েন্দা ও তদন্তে জড়িত থাকলেও যুদ্ধের দায়িত্ব সৌদি আরবের সৈন্যরা নিচ্ছে।"
"আমি ‘শারীরিকভাবে’ এই কথাটি জোর দিতে চাই। আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রিয়াদ, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ, মেজর জেনারেল তুরকি আল-মাল্কি, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০টি যুদ্ধবিমান, ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য (১৯৮৫)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!