📌 জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তানের ৩৮.৩% মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে, যা বাংলাদেশ ও ভারতের চেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র্যের প্রধান কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বৃদ্ধির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তানের ৩৮.৩ শতাংশ মানুষ এ ধরনের দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন, যেখানে বাংলাদেশে এই হার ১৪.৯ শতাংশ এবং ভারতে ১৬.৪ শতাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তান ৩৮.৩ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে, যা বাংলাদেশ (১৪.৯%) ও ভারত (১৬.৪%)-এর চেয়ে বেশি
- 📌 পাকিস্তানের ৫১.৭ শতাংশ দারিদ্র্যসম্মুখীন মানুষের বঞ্চনার মাত্রা সর্বোচ্চ, আর ১২.৯ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে
- 📌 বিশ্বব্যাপী বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ, মোট ১২০ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশু
- 📌 দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫ কোটি দরিদ্র মানুষের পরিবারে অন্তত একজন স্কুলগামী শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত
- 📌 ইউএনডিপির প্রশাসক আলেক্সান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, ১২০ কোটি মানুষ ক্ষুধা, শিক্ষা ও বিশুদ্ধ পানির অভাবের মুখে পড়েছেন
📰 বিস্তারিত
ইউএনডিপির নিউইয়র্ক সদর দফতর থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য পরিমাপে শুধু আয় নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানও বিবেচনা করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পুষ্টি, শিশুমৃত্যু, শিক্ষার বছর, স্কুলে উপস্থিতি, পয়োনিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানীয় জল, বিদ্যুৎ, বাসস্থানের অবস্থা এবং পরিবারের সম্পদ। পাকিস্তানের দারিদ্র্যসম্মুখীন মানুষের মধ্যে ৫১.৭ শতাংশের বঞ্চনার মাত্রা সর্বোচ্চ, আর ১২.৯ শতাংশ মানুষ তীব্র বঞ্চনার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত ১৫ বছরে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আগের প্রতিবেদনের তুলনায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ১৫ লাখ বেড়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশু। বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে থাকা শিশুর সংখ্যা ৬১ কোটি ৭০ লাখ। দক্ষিণ এশিয়ায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৯.৩ শতাংশ, আর ১৮.৪ শতাংশ মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র্যের প্রধান কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের অবদান ২৯.৯ শতাংশ, শিক্ষার অবদান ৩৩.৭ শতাংশ এবং জীবনযাত্রার মানের অবদান ৩৬.৩ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫ কোটি দরিদ্র মানুষের পরিবারে অন্তত একজন স্কুলগামী শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ইউএনডিপির প্রশাসক আলেক্সান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, ‘দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই চিত্র বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। এ পরিসংখ্যানের আড়ালে রয়েছেন ১২০ কোটি মানুষ, যাঁরা ক্ষুধা, শিক্ষার সুযোগ হারানো এবং বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের অভাবের মুখে পড়ছেন।’
"দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই চিত্র বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। এ পরিসংখ্যানের আড়ালে রয়েছেন ১২০ কোটি মানুষ, যাঁরা একসঙ্গে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন—ক্ষুধা, শিক্ষার সুযোগ হারানো এবং বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের অভাব। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (ইউএনডিপি সদর দফতর), দক্ষিণ এশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলেক্সান্ডার ডি ক্রু (ইউএনডিপি প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮.৩% (পাকিস্তানের বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার), ১৪.৯% (বাংলাদেশ), ১৬.৪% (ভারত), ৫১.৭% (পাকিস্তানের বঞ্চনার মাত্রা), ১২০ কোটি (বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যসম্মুখীন মানুষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!