📌 পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত করেছে। কোহাটে মসজিদে বিস্ফোরণে ২৩ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ১৫ জন পুলিশ। আফগানিস্তানকে দায়ী করে পাকিস্তান বলেছে, সন্ত্রাসবাদের হুমকি এখনো আফগানিস্তান থেকে আসছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত করেছে। এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্থল অভিযানও পরিচালিত হয়। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (এমওআইবি) সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) একটি বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, কোহাট, হাঙ্গু ও থালে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত স্থল অভিযান চালানো হয়। এরপর সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর ঘাঁটি ও নিরাপদ আস্তানায় সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে মোট ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত করেছে
- 📌 কোহাটের পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে বিস্ফোরণে ২৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য
- 📌 আফগানিস্তানভিত্তিক ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে
- 📌 ২০ সেপ্টেম্বর কোহাট ও হাঙ্গু জেলায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পৃথক স্থল অভিযানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজের’ নয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়
- 📌 আফগান সীমান্তে ফিতনা আল-খাওয়ারিজ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষণশিবির ও ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলায় ২৮ সন্ত্রাসী নিহত হয়
- 📌 পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদের হুমকি এখনো অব্যাহত
- 📌 জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আফগানিস্তান আবারো সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কে-পি প্রদেশে সাম্প্রতিক একাধিক সন্ত্রাসী হামলার পর কোহাট, হাঙ্গু ও থালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত স্থল অভিযান চালানো হয়। এরপর সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালানো হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কোহাটের পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে বিস্ফোরণে ২৩ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। পরে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে আট সন্ত্রাসীকেও হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানভিত্তিক হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
২০ সেপ্টেম্বর কোহাট ও হাঙ্গু জেলায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পৃথক স্থল অভিযান চালানো হয়। এতে ভারতীয় মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজের’ নয়জন ‘খাওয়ারিজ’ নিহত হয়। কয়েকজন আহতও হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানের সাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় ফিতনা আল-খাওয়ারিজ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রশিক্ষণশিবির ও ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়, যার মধ্যে আত্মঘাতী বোমারুদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রও ছিল। এসব হামলায় ২৮ সন্ত্রাসী এবং কয়েকজন আত্মঘাতী বোমারু নিহত হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সবসময় চেষ্টা করেছে। তবে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, আফগানিস্তান এখনো সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল হয়ে থাকায় পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবাদের হুমকি আফগানিস্তান থেকেই আসছে। এ কারণে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছিল এবং কোনো পার্শ্বক্ষতি হয়নি।
"আফগানিস্তান আবারো এমন বহু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে, যারা দেশটির মাটি থেকে অবাধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। গত তিন বছরেই আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদের কারণে ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি নিরপরাধ পাকিস্তানি প্রাণ হারিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কে-পি), কোহাট, হাঙ্গু, আফগান সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, হাফিজ গুল বাহাদুর (আইএমপি নেতা), আসিম ইফতিখার আহমদ (পাকিস্তানের জাতিসঙ্ঘ প্রতিনিধি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত, ২৩ জন মসজিদ বিস্ফোরণে নিহত (১৫ জন পুলিশ), ২৮ সন্ত্রাসী বিমান হামলায় নিহত, ৪ হাজার ৭০০ পাকিস্তানি নিহত (গত তিন বছরে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!