📌 পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। পাকিস্তান গত ২৪ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের তিন প্রদেশে বিমান হামলা চালায়, যেখানে চারজন নিহত হয়। আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জঙ্গি হামলার সাথে আফগানিস্তানের সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে এই উত্তেজনা বাড়ছে
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান আফগানিস্তানের কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান সরকার। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা এই হামলাকে ‘সুনির্দিষ্ট ও সামরিক লক্ষ্যভিত্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, এটি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য করা হয়েছে। তবে তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তান গত ২৪ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়, চারজন নিহত হয়
- 📌 পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা হামলাকে ‘সুনির্দিষ্ট ও সামরিক লক্ষ্যভিত্তিক’ বলে বর্ণনা করেন
- 📌 আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়
- 📌 পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জঙ্গি হামলার সাথে আফগানিস্তানের সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে উত্তেজনা বাড়ছে
- 📌 গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের কোহাটে আত্মঘাতী হামলায় ২১ জন নিহত হয়, পাকিস্তান দাবি করে হামলাটি আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের সাথে সম্পর্কিত
- 📌 পাকিস্তান দাবি করে, আফগানিস্তানের মাটিতে টিটিপি ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালায়
- 📌 দুই দেশের ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ধ সীমান্তে সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অবিশ্বাসের কারণে উত্তেজনা বাড়ছে
- 📌 গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের পর চীন, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতা সফল হয়নি
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের বিরোধের ফলস্বরূপ। পাকিস্তান গত ২৪ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা এই হামলাকে ‘সুনির্দিষ্ট, পরিমিত ও সামরিক লক্ষ্যভিত্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই হামলা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য করা হয়েছে। তবে আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জঙ্গি হামলার সাথে আফগানিস্তানের সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে এই উত্তেজনা বাড়ছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে একটি পুলিশ স্থাপনার ভেতরের মসজিদে আত্মঘাতী হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২১ জন নিহত হন। পাকিস্তান দাবি করে, এই হামলাটি আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি পাকিস্তানি তালেবানপন্থী গোষ্ঠী এই হামলার দায়ও স্বীকার করেছে। পাকিস্তান দাবি করে, আফগানিস্তানের মাটিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালায়।
আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে, তালেবান সরকার টিটিপিকে পাকিস্তানে হামলার অনুমতি দেয় না। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে তিনটি স্থানে বিমান হামলা চালায়। ইসলামাবাদ দাবি করে, এতে ২৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের হিসাবে ওই হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর মাত্র কয়েক দিন পরই আটটি ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনা ঘটে এবং তার পরদিন আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে হামলা চালায় পাকিস্তান। ফলে পাল্টাপাল্টি হামলার নতুন চক্র শুরু হয়েছে।
"পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে এই হামলা চালানো হয়েছে।"
দুই দেশের বর্তমান বিরোধ শুধু সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ফল নয়। তালেবান ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমে অবনতির দিকে যায়। পাকিস্তান একসময় তালেবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সমর্থক ছিল। কিন্তু তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ায় সেই সম্পর্ক দ্রুত বদলে যায়। বিশেষ করে টিটিপির তৎপরতা ইসলামাবাদের জন্য বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ হয়ে দাঁড়ায়। দুই দেশের প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতিগত সম্পর্ক, জঙ্গি তৎপরতা এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের কারণে উত্তেজনা বাড়ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তানের কান্দাহার, পাকতিয়া, খোস্ত প্রদেশ; পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট; পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা, আফগান তালেবান সরকার, টিটিপি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ সেপ্টেম্বর (বিমান হামলার তারিখ), ১০টি স্থানে হামলা, ৮টি ড্রোন, ১৮ সেপ্টেম্বর (জঙ্গি হামলার তারিখ), ২১ জন নিহত, ২৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, ২৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত দৈর্ঘ্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!