📌 মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি বাইপাস করে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক তেল দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তিচুক্তি আলোচনায় এই রপ্তানি বৃদ্ধি প্রভাব ফেলতে পারে
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি বাইপাস করে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাক থেকে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের আগের ১২ মাসে দৈনিক রপ্তানি পরিমাণের ৮০ শতাংশেরও বেশি এখন রপ্তানি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক ১ কোটি ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি** — যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ পরিমাণ।
- 📌 **হরমুজ প্রণালি বাইপাস করে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি বাড়ানো হচ্ছে** — বন্দর থেকে জাহাজে সরাসরি তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে।
- 📌 **ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে** — আগস্টের শেষে ছিল ৯০ ডলার, কিন্তু এপ্রিলে যুদ্ধের সময় দাম ১২৬ ডলারেরও বেশি ছিল।
- 📌 **সৌদি আরবের দৈনিক তেল রপ্তানি ৬৯ লাখ ব্যারেলে** — যা দ্বিগুণ বেড়েছে, তবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি বাড়ছে।
- 📌 **হরমুজ প্রণালিতে গত সপ্তাহে চারটি জাহাজে হামলা** — এর মধ্যে সোমবার রাতে এক তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়।
- 📌 **ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯টি জাহাজ লক্ষ্যবস্তু** — এর মধ্যে সাতটি সোমবার রাতে হামলার শিকার হয়।
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে। তারা উপসাগরীয় বন্দর থেকে তেল সরবরাহ করে প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ জাহাজে সরাসরি স্থানান্তর করছে। জাহাজমালিকদের সংগঠন বিমকোর প্রধান শিপিং বিশ্লেষক নিলস রাসমুসেন বলেছেন, এই পদ্ধতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি কমিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সৌদি আরবও হরমুজ প্রণালি বাইপাস করার চেষ্টা করছে। তারা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করছে। তবে ১০ সেপ্টেম্বর এই পাইপলাইনে হামলার পর সৌদি আরব তেল সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এরপর তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বাড়িয়ে দিয়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাস তানুরা বন্দর থেকে তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ড্রুরির বিশ্লেষক আনশিকা প্রজাপতি বলেছেন, ‘কয়েক মাসের ব্যাহত হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে শাটল সার্ভিসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া তেল রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, তেল রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তিচুক্তি আলোচনায় ইরানের প্রভাব কমতে পারে। কারণ, তেল সরবরাহ বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ কমবে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলেও শাটল সার্ভিস ও জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তর অব্যাহত আছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের নিরাপত্তা সহায়তায় প্রতিদিন গড়ে ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল তেলবাহী ট্যাংকার।
"কয়েক মাসের ব্যাহত হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে—রপ্তানি বৃদ্ধির পরিসংখ্যানে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।"
— আনশিকা প্রজাপতি, ড্রুরি প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় অঞ্চল, লোহিত সাগর, রাস তানুরা বন্দর, ইয়ানবু বন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিলস রাসমুসেন (বিমকোর বিশ্লেষক), আনশিকা প্রজাপতি (ড্রুরি বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৫৫ লাখ ব্যারেল (দৈনিক রপ্তানি), ৮০ শতাংশ (রপ্তানি বৃদ্ধি), ৬৯ লাখ ব্যারেল (সৌদি আরবের রপ্তানি), ১০০ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের বর্তমান দাম), ৩০টি (জাহাজ দৈনিক হরমুজ প্রণালি পার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!